সংবাদ শিরোনাম :
এসএমপি’র  পুলিশ কমিশনার  আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, কে এয়ারপোর্টে  বিদায় জানান এসএমপি‘র ঊর্ধ্বতন  পুলিশ কর্মকর্তাগন। সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি জাতির প্রতি অঙ্গীকার : খায়রুল আলম সুমন জৈন্তাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ উছমান গনি কোম্পানীগঞ্জ থানার নয়া ওসি শ্রীমঙ্গলে ১৮ ফুট লম্বা বিশাল আকৃতির অজগর উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে বই পড়া উৎসব, অংশ নেবেন ২৫ হাজার শিক্ষার্থী সিলেটে প্রবাসীদের জন্য সহজ শর্তে মোটরসাইকেল রেন্টাল সেবার উদ্বোধন সিলেটের নারীরা সাংবাদিকতা পেশায় নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দেখাচ্ছেনঃ ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত; শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা ও থানা পুরস্কৃত সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে নবাগত ওসির সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় মৌলভীবাজার রাজনগর এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে পুলিশের খাদ্য ও ঔষধ সামগ্রী   বিতরণ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে চোরাচালানের ‘স্বর্গরাজ্য’: শ্যাম কালার উত্থান, পুলিশের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ

সিলেটের গোয়াইনঘাটে চোরাচালানের ‘স্বর্গরাজ্য’: শ্যাম কালার উত্থান, পুলিশের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা এখন চোরাচালানের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিশেষ করে সোনারহাট ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাদক, ভারতীয় পণ্য এবং অবৈধ বালু উত্তোলন চললেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত কালা মিয়া ওরফে শ্যাম কালা। একসময় পাথর শ্রমিক ও দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করা এই ব্যক্তি বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিজেকে ডিবি পুলিশ ও থানার ‘লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে তিনি একটি বড় চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যাম কালার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, মোটরসাইকেল, ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ নানা ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গেও জড়িত রয়েছে তার সিন্ডিকেট।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় থানা পুলিশের বিট অফিসার এসআই তানজিলকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে। তার সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চোরাচালান চলছে বলে দাবি করেছেন তারা। এমনকি ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে শ্যাম কালার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাব বিস্তারে শ্যাম কালা গড়ে তুলেছেন একটি ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনী। এর মাধ্যমে তিনি এলাকায় আধিপত্য বজায় রেখে চোরাচালান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করছেন। এতে সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার পাশাপাশি পরিবেশ ধ্বংসের ঝুঁকিও বাড়ছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এক অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্যসহ দুইজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন উত্তর লাবু গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম ও ফেনাইকুনা গ্রামের রামীম আহমদ। স্থানীয়দের দাবি, এসব পণ্যের মূল হোতা ছিলেন শ্যাম কালা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্যাম কালার বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ফেসবুকে যুক্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে যোগসাজশের কারণেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বিট অফিসার এসআই তানজিলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত শ্যাম কালার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সীমান্ত এলাকা আরও বড় ধরনের অপরাধকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet