সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে দুই ভোট কেন্দ্রের চারজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর মাজার শরীফের ৭০৫তম পবিত্র ওরস এর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ হাসিনার ৪৩তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা, মদ ও পিস্তলসহ যুক্তরাজ্য নাগরিক আটক কুলাউড়ায় ভোক্তার অভিযানে ৩ প্রতিষ্টানকে জরিমানা যুক্তরাজ্যের বাকিংহাম প্যালেসে রাজপরিবারের পার্টিতে আমন্ত্রন পেলেন শ্রীমঙ্গলের অলিউল কবি কাজী নজরুলের জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা কবি নজরুলের ১২৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে  আলোচনা সভা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা সিসিকের হোল্ডিং ট্যাক্স এসেসমেন্ট বাতিল, পুনরায় রি-এসেসমেন্টের সিদ্ধান্ত বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির ভবন নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন
সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তের চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যের ২য় পর্বে জৈন্তাপুর উপজেলা

সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তের চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যের ২য় পর্বে জৈন্তাপুর উপজেলা

 

এ.এ. রানা:: সিলেটের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে চার উপজেলার ৮০টি স্থান দিয়ে ভারত থেকে আসছে গরু-মহিষসহ নানা ধরনের পণ্য ও মাদক। এর মধ্যে আছে চিনি, পেঁয়াজ, চা পাতা, শাড়ি, জামা, প্রসাধনসামগ্রী, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, জুতা, টায়ার, ওষুধ ও যানবাহনের পার্টস। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানিদের যেন উৎসব চলছে। ঈদ সামনে রেখে দিন-রাত পণ্য আনা হচ্ছে।

সরেজমিন বিভিন্ন স্পটে দেখা গেছে, গরু ও মহিষের চালান সীমান্ত পার করে এনে নির্দিষ্ট স্থানে মজুত করার পর সময় বুঝে ট্রাক কিংবা অন্য যানবাহনে পৌঁছে দেওয়া হয় গন্তব্যে। চিনি, পেঁয়াজ, মাদক, প্রসাধনসামগ্রী ও কাপড়ের বস্তা বা কার্টন শ্রমিকরা হাতে-পিঠে-মাথায় করে নিয়ে আসছেন। সীমান্ত পার করে নির্দিষ্ট জায়গায় জড়ো করার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি নেতাসহ জনপ্রতিনিধিরা। তাদের মাধ্যমে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, বিজিবির নাম করে টাকা নেওয়া হয়। অনেক পয়েন্টে আবার বাহিনীর সদস্যরা টাকা নেন। প্রতিদিন চোরাচালান পণ্য থেকে ৪০-৫০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এগুলো বিভিন্ন জনের পকেটে যায় বলে জানা গেছে।

গত মাসে জেলা পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ৮১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করে। এ ছাড়া ১২৫ বস্তা চিনিসহ তিনজনকে আটক করে। মহানগর পুলিশ নগর এলাকা অতিক্রম কিংবা প্রবেশকালে দুই কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ছাড়াও এক হাজার বস্তা চিনি জব্দ এবং সাতজনকে আটক করে। বিজিবি অভিযান চালিয়ে চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে। তবে পুলিশ-বিজিবির অভিযানে জব্দ পণ্য মোট চোরাই পণ্যের এক হাজার ভাগের এক ভাগ হবে বলে অনেকে মনে করেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্তে বেশি চোরাচালান হয়। এর পর আছে কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা। এ ছাড়া জকিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে। ৮০টি স্থান দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য আসে। অবৈধভাবে পণ্য আসার কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বেশির ভাগ চোরাচালান হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ করেন চোরাচালান। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকার আরও ১০০ জনের মতো ব্যবসায়ী রয়েছেন। জড়িত রয়েছে সিলেট নগরীর কিছু লোকও। পণ্যের বিপরীতে তারা হুন্ডিসহ বিভিন্নভাবে টাকা পরিশোধ করে থাকেন। এসব ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন চোরাচালানে। ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ রয়েছে। সীমান্ত পার করায় নিয়োজিত থাকেন একশ্রেণির শ্রমিক। তারা পণ্য বহনের জন্য রাস্তার দূরত্ব বুঝে পারিশ্রমিক পান। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের কখনও ফাঁকি দিয়ে, কখনওবা ম্যানেজ করে পণ্য আনা হয়। যারাই যে মাধ্যমে পণ্য নিয়ে আসেন, টাকা দিতে হয়। ‘লাইনম্যান’খ্যাত লোকজন টাকা তোলে। লাইন নিয়ন্ত্রণ করেন প্রভাবশালীরা। তাদের মধ্যে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। সীমান্ত পার করার পর পণ্য এলাকার বাড়ি কিংবা দোকানসহ নিরাপদ স্থানে মজুত করা হয়। পরে সেখান থেকে ট্রাক, পিকআপে হরিপুর বাজার কিংবা অন্য জায়গায় পাঠানো হয়।

জৈন্তাপুর সীমান্ত

জৈন্তাপুর সীমান্তের ৩০টি স্পট দিয়ে চোরাচালান হয়। সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন বাড়িতে, জঙ্গলে, পাহাড় ও টিলার আড়ালে গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে। সন্ধ্যার পর উপজেলার নলজুরী, মোকামবাড়ী, আলুবাগান, শ্রীপুর, মোকামপুঞ্জি, মিলাটিলা, ছাগল খাউরী, কাঁঠালবাড়ী, আদর্শগ্রাম, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, করিমটিলা, গুয়াবাড়ী, বাইরাখেল, জালিয়াখলা, লালাখাল, জঙ্গীবিল, বালিদাঁড়া, বাঘছড়া, সিঙ্গারীপাড়, সুরাইঘাটসহ কয়েকটি এলাকা দিয়ে গরু-মহিষসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসা হয়। গরুসহ কিছু পণ্য স্থানীয় হরিপুর বাজারে বিক্রি হয়। পুলিশের নামে শফিকুল হক, বিজিবির নামে আবদুস সামাদ, আরমান, আবদুল জব্বার ও রুবেল টাকা উত্তোলন করেন। থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, মূলত চোরাচালান রোধ বিজিবির কাজ। আমরা খবর পেলে অভিযান চালাই। প্রায় প্রতি সপ্তাহে পণ্য জব্দ ও লোক আটক করা হয়। পুলিশের নামে কেউ টাকা উত্তোলন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলবে

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet