সংবাদ শিরোনাম :
নগরীর কালীঘাট মাছিমপুর সবজিবাজার কাষ্টঘর সহ সোবহানীঘাটে কিছুতেই থামছে না শীলং তীর ও জুয়া ঃ বেপরোয়া জুয়াড়িরা

নগরীর কালীঘাট মাছিমপুর সবজিবাজার কাষ্টঘর সহ সোবহানীঘাটে কিছুতেই থামছে না শীলং তীর ও জুয়া ঃ বেপরোয়া জুয়াড়িরা

হলি সিলেট ডেস্ক ঃ
নগরীর কালীঘাট এলাকায় কিছুতেই থামছে না ইন্টারনেট ভিত্তিক ভারতীয় শিলং তীর নামক জুয়া খেলা। থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে দু’ একজনকে আটক করলে, আদালতের মাধ্যমে তারা জামিনে বের হয়ে আবার এ খেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠে। দিনে টোকনের মাধ্যমে তীর খেলা আর রাতে বসে ঝান্ডু-মান্ডু জুয়ার আসর। এই জুয়ার বোর্ড বসিয়ে দিনমজুর থেকে অনেকে হয়ে উঠেছেন কোটিপতি। আর যারা এই জুয়া খেলতে আসে তারা হারাচ্ছে সর্বত্র। অনেকেই সব কিছু হারিয়ে এমনকি পরিবার পরিজনদের বিপাকে পেলে পথে বসতে হয়েছে। এমন কর্মকান্ড দেখে স্থানীয়রা বাকরুদ্ধ।

জানা গেছে, কালিঘাটের বস্তাপট্টি নামক মার্কেটে নিচ তলায় রড-সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। দুটি গলির একটু ভিতরে গেলে দেখা যায় দু’তলার ছাদের সিঁড়ি। বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই ছাদের এক পাশে রাখা পলিথিন ও পাটের বস্তার বান্ডিল। তাই এই মার্কেট সবার কাছে ‘বস্তা মার্কেট’ নামে পরিচিত। অপর পাশে দুটি চেয়ারে বসে আছেন দু’জন যুবক। নাম বড় জামাল ও ছোট জামাল। টেবিলে আছে কাগজের কিছু টুকরো। জুয়া খেলতে সারি বেঁধে আসছেন নানা পেসার লোকজন। চেয়ারে বসা যুবকরা তাদেরকে ১০/২০/৫০/১০০/৩০০ টাকার বিনিময়ে একটি টোকেন দিচ্ছেন। কেউবা নিচ্ছেন কয়েকটি। এমনকি কেউ কেউ একসাথে ২০টি টোকেনও নিচ্ছেন। এ যেন কোনো যানবাহনের অথবা চিকিৎসকের টিকিট কাউন্টার। কিন্তু আসলে এই টোকেন হচ্ছে শিলং তির খেলার। একই জায়গার চিত্র পালটে যায় সন্ধ্যার পর। সন্ধ্যার পর বসে ঝান্ডু-মান্ডু জুয়ার আসর।
দল বেধেঁ জুয়াড়িরা ঝান্ডু-মান্ডুর খেলেন। এই জুয়ার বোর্ডের নেতৃত্ব দেন একাদিক মামলার আসামী ছাত্রদলের শরীফ আহমদ। কালীঘাটের বোর্ডের শরীফের সহযোগী বড় জামাল ও ছোট জামাল দিনে তীর শিলং ও রাতে ঝান্ডু-মান্ডু জুয়ার আসর বসান। এখানেও শরীফের সহযোগী মাছুম, ছেন্টু ও মঞ্জু এই জুয়ার আসর পরিচালনা করেন। শরীফ ৫ বছর আগে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরী করতেন। কিন্তু জুয়ার বোর্ডের অদৃশ্য টাকায় এখন তিনি কোটিপতি। নগরীতে রয়েছে তার ৩ তলা বাসা, রয়েছে দুদুটি দামী গাড়ি। শ্রমজীবি মানুষরা লোভে পরে এই জুয়াখেলে। আর তারা এরকম ধান্দাবাজী করে গরীবের ধন হাতিয়ে নিয়ে বিলাশ বহুল জীবন যাপন করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু অসৎ পুলিশ এসব জুয়ার বোর্ডের মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে সুবিধা নেয়াতেই এই শিলং নামের জুয়া খেলা কিছুতেই থামছে না। ফলে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে মাঝে মধ্যে তীর খেলা বন্ধে অভিযান চললেও কোনো সুফল মিলছে না। সাম্প্রতিক সময়ে কালিঘাট এলাকায় শিলং তীর এবং ঝান্ডুু-মান্ডু খেলার উৎপাত দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ এলাকায় প্রকাশ্যেই শিলং তীর খেলার টোকেন বিক্রি হওয়ায় নারী-পুরুষ দল বেঁধে এই তীর নামক জুয়া খেলায় লাভের আসায় প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে। লাভতো দূরের কথা প্রতিনিয়ত এসব খেলে অনেকেই নি:স্ব হচ্ছে। আর ভারতীয় শীলং তীর খেলার এ ভাগ্যের খেলায় স্কুল-কলেজের ছাত্র, দিনমজুর, রিকশাচালক, যানবাহন চালক-শ্রমিকসহ বেকার যুবকরা বেশি অংশ নিচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আজ থেকে ৩০ বছর আগে ভারতীয় ধনকুবেররা এ রকম খেলাটি আবিষ্কার করেছিল। এর নাম রাখে মেঘালয়ের আঞ্চলিক ভাষায় ‘তীর খেলা’। এই শিলং তীর খেলাটির নিয়ম হচ্ছে এদেশের এজেন্টদের মাধ্যমে ০-৯৯ পর্যন্ত নম্বর বিক্রয় করা হয় ১০ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো মূল্যে। লটারিতে ০ থেকে ৯৯ পর্যন্ত কোনো সংখ্যা কিনে নেওয়া যায়। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হয়। যত মূল্যে সংখ্যাটি বিক্রয় করা হয় তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হয় বিজয়ী নম্বরকে। অর্থাৎ, ১০ টাকায় ৭০০ টাকা। একই নম্বর একাধিক লোকও কিনতে পারেন। সবাই কেনা দামের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি টাকা পাওয়ার লোভে এই শিলং নামে জুয়ায় বাজি ধরছেন। প্রতিদিন বিকাল সোয়া ৪টায় ও সাড়ে ৫টায় ও রাত সাড়ে ১০টায় এ লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। খেলার ফলাফল দেওয়া হয় অনলাইনে। ভারতের শিলং থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়ার আসরটি পরিচালনা করা হয়। আর এ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনেও ফলাফল জানা যাচ্ছে। আর এসব জুয়ার নেতৃত্বে রয়েছে এলাকার প্রভাবশালী কিছু লোকজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এনড্রয়েড ফোন সেটের মাধ্যমে নম্বর বইয়ের মালিকরা দেখান ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে নম্বর টোকেন বিক্রি করেন।

এই খেলাটি চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কিছু দিন আগে এদের উচ্ছেদ করতে অভিযানে নামেন । এরপর কয়েকদিন পর থেকে জুয়াড়ীরা আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠে। জুয়াড়ীরা হচ্ছে শরীফ,, মিজান, নাসিম, সাইফুল শিপু সহ আরো অনেকেই কুমিল্লার নজরুল তারাই হচ্ছে বোর্ডের মালিক। তাদের মধ্যে শরীফের রয়েছে আলাদা দাপট সকলের কাছে বলে বেড়ায় তার বড় ভাই সরকার দলের নেতা। তাকে কিছুই করার ক্ষমতা নেই কারো।
শরীফের সহযোগী বড় জামালের সাথে আলাপ করলে সে বলে, এই বোর্ডের মালিক ছাত্রদলের শরীফ আহমদ। আমরা কমিশনে কাজ করি। আপনি কোনো কিছু বলতে হলে তাকে বলেন। একই বক্তব্য ছোট জামালের। এছাড়া নগরীর কাষ্টঘর সবজি মার্কেট ও সোবহানীঘাট ফাঁড়ির পাশেই রয়েছে শিপুর জুয়ার বোর্ড
এদিকে পুলিশের লেনদেন দেখাশোনা করেন সেলিম নামের শরীফের আরেক সহযোগী।
এ ব্যাপারে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সাজেদুল ইসলাম এক প্রশ্নের জবাবে হলি সিলেট এর প্রতিবেদককে জানান,
আমার ফাঁড়ি এলাকায় কোন জুয়ার বোর্ড আমার জানা মতে নেই। আপনার জানা থাকলে বলেন, আমরা তৎক্ষনাৎ ব্যবস্থা নেব।
খালিঘাট যদি বন্দর ফাঁড়ি এরিয়ার মধ্যে পড়ে থাকে তাহলে শরিফের জুয়াড়বোর্ড শীলংতীর ও জান্ডুমান্ডু নামক জুয়া খেলা দিনরাত প্রকাশ্যে চলছে এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, এখনি পুলিশ পাটাবো জুয়ারীদের পাইলে গ্রেফতার করে নিয়ে আসবে।
সূত্রমতে, গত কয়েক মাসে সিলেটে অন্তত শতাধিক জুয়ার আসর বন্ধ করে দেয়া হলেও আবারো পুনরায় এসব জুয়ারবোর্ড সচল হয়েছে । আর এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবিদার ছিল মহানগর পুলিশের। কিন্তু জুয়ার আসর বন্ধ করা হলেও ফাঁড়ির কিছু অসাধু পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কারণে এসকল জুয়া খেলা ফের ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো সিলেটের আনাচে-কানাচে।
এদিকে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ” হলি সিলেট ” কে জানান, এই জুয়ার বোর্ডগুলো সম্পর্কে আমি অবহিত নয়, এখন আপনারা তথ্য দিয়েছেন, আমি অবশ্যই জুয়ার বোর্ড বিষয়ে জরুরী পদক্ষেপ নেব। এছাড়া সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) সুদীপ দাসকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি জুয়ারীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করেন এবং জরুরীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবেন বলে হলি সিলেটের এ প্রতিবেদককে জানান। চলবে……।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet