আমি শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষক, নিরীক্ষক, আন্তঃপরীক্ষক, বহিঃপরীক্ষক ও ভিজিলেন্স টিম সহ বেশ কিছু কাজের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত। এছাড়াও TTকলেজ, BANBEIS, BCC ও HSTTI তে ১৪/২৭ /৪ ০ দিনের প্রশিক্ষণে গিয়ে সারাদেশের শিক্ষকবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার সুযোগ আমার হয়েছে। তাতে মনে হয়েছে 'শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ' এর প্রধান বিরোধী পক্ষ ঘর থেকে শুরু হয়েছে। তার কয়েকটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি-----
কেস স্টাডি -১ঃ একজন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক বললেন "আমি যতদিন আছি, ততদিন উচ্চ মাধ্যমিক স্তর MPOভুক্ত হতে দিব না।" তার মাস্টার্স নাই, বাকী সব ৩য় বিভাগ।
কেস স্টাডি -২ঃ একজন ডিগ্রি কলেজের ( ডিগ্রি স্তর None MPO) অধ্যক্ষ বললেন "উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষকবৃন্দের জ্বালায়-ই অতিষ্ঠ আবার ডিগ্রি স্তর? যত্তসব!
কেস স্টাডি -৩ঃ একটি None MPO উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ। তার NTRCA সনদ নাই বলে নিয়োগ নিতে পারেননি। তার জানেন "প্রতিষ্ঠান MPOভুক্ত হলেতো আমার প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে। কি দরকার MPOভুক্ত করে?" লুটে পুটে খাই।
কেস স্টাডি -৪ঃ একটি বি.এম কলেজের খণ্ডকালীন প্রভাষককে বললাম "আপনারা প্রতিষ্ঠান MPO করেন না কেন? তিনি বললেন "MPOভুক্ত হলে দেশী বিদেশী মোটা অনুদান বন্ধ হবে, মারিং কাটিং, বিল ভাউচার চলবে না।"
কেস স্টাডি -৫ঃ একটি হাই স্কুল। আগে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরও MPOভুক্ত ছিল। হাই স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ দেখলেন প্রভাষকবৃন্দ ৩ দিন আসেন ২ টি করে ক্লাস নেন, বেশি বেতন পান, এটা প্রেস্টিজের ব্যাপার। তারা চক্রান্ত করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর তুলে দিলেন।
কেস স্টাডি -৬ঃ একটি মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণের চিন্তাভাবনা করার জন্য হাউজে কথা উঠালে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি বললেন. "আজ প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হবে আর কাল আমাকে বান্দরবান পরশু আমাকে কক্সবাজার পাঠাবেন? দরকার নেই এসব।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ! বাবার কোন সন্তান অন্ধ, ল্যংড়া, অক্ষম, পংগু থাকতে পারে, সবাই কিন্তু সমান অংশীদার। পরিবারে সবার অবদান সমান থাকে না কিন্তু সবার অধিকার সমান। আমরা তো আপনার সন্তানতুল্য। এখানে কেউ পূর্ণাঙ্গ সরকারী, কেউ আধা সরকারী কেউ বেদরকারী, এটা বেমানান। শিক্ষক সমাজের মধ্যে শতকরা ১ জন মুলা চোর থাকতে পারে কিন্তু কেউ পুকুর চোর বা সাগর চোর নই। "ভাগ কর আর শোষণ কর" এই নীতি কাম্য নয়। ৫ আগস্ট পরবর্তী এদেশের স্বপ্ন হোক একটি বৈষম্যহীন, সুখী-সমৃদ্ধ ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা।
তাই অনতিবিলম্বে আপনার সোনালি সময়কে স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখতে টিউশন ফিস সরকারী কোষাগারে জমা নিয়ে ' শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করন' করে আপামর জনগণের চাহিদা পুরণ করবেন এ প্রত্যাশা রইল।
--------------------
ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম
গবেষক ও কলামিস্ট, সিলেট।