সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে শান্তিপূর্ন ভোট গ্রহণ শেষে চলছে গননা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার  কর্তৃক সহকারী পুলিশ কমিশনার কোতোয়ালী মডেল থানা কার্যালয় পরিদর্শন শ্রীমঙ্গলে দুই ভোট কেন্দ্রের চারজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর মাজার শরীফের ৭০৫তম পবিত্র ওরস এর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ হাসিনার ৪৩তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা, মদ ও পিস্তলসহ যুক্তরাজ্য নাগরিক আটক কুলাউড়ায় ভোক্তার অভিযানে ৩ প্রতিষ্টানকে জরিমানা যুক্তরাজ্যের বাকিংহাম প্যালেসে রাজপরিবারের পার্টিতে আমন্ত্রন পেলেন শ্রীমঙ্গলের অলিউল কবি কাজী নজরুলের জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা কবি নজরুলের ১২৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে  আলোচনা সভা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
হকারের দখলে সিলেটের ফুটপাত ও প্রধান সড়কগুলো। সিটি মেয়রের সু- দৃষ্টি জরুরি।

হকারের দখলে সিলেটের ফুটপাত ও প্রধান সড়কগুলো। সিটি মেয়রের সু- দৃষ্টি জরুরি।

হলি সিলেট ডেস্কঃ
নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক গুলো হকারদের দখলে। শুধু ফুটপাত নয়, সড়কেরও বিশাল একটি অংশও হকারদের দখলে। ফলে দিন দিন বাড়ছে নগরীতে যানজট ও যাত্রী সাধারণের বিড়ম্বনা।
ব্যস্ততম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো যেন হকারের পেটে বিলিন হয়ে বাজারে পরিণত হয়েছে। আর ফুটপাত দখল তো পুরনো কাহিনি। ফুটপাত দখলের পর শুরু হয় হকারদের রাস্তায় অবস্থান। গত জাতীয় নির্বাচনের পর সেই অবস্থান এখন দখলে পরিণত হয়েছে। ফুটপাতে প্রতিদিন বাড়ছে হকারদের সংখ্যা।

আগে সন্ধ্যার আগে হকাররা ফুটপাতে বসলেও এখন বেশকিছু দিন থেকে সকাল থেকেই বসা শুরু করছেন। দুপুরের পর তাদের অবস্থান ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তায় চলে আসে এবং একসময় রাস্তার বেশীরভাগই তাদের দখলে চলে যায়। বাকি যে অল্প জায়গা অবশিষ্ট থাকে তা চলে যায় গাড়ি পার্কিয়ের দখলে। এরমধ্যে বন্দর থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা দখলে বেহাল। হকারের বাইরে রাস্তার বাকি অংশ লেগুনা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ে দখল হয়ে যায়। দখলের দিক থেকে বন্দরবাজার, কোর্ট পয়েন্ট এবং আম্বরখানার অবস্থা ভয়াবহ। এসব রাস্তায় দখল এত পরিমাণ ছাড়িয়েছে যে গাড়ি চলাচল তো দূরে থাক লোকজনকে পায়ে হেঁটে এসব এলাকা অতিক্রম করতে কাঙ্গালি ভোজের শিরনীর মতো লাইন করে চলতে হয়। ফলে রাস্তায় অল্প পরিমাণ অংশ দিয়ে মানুষ ও যানবাহন লাইন বেধে চলতে হচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। ফলে যাত্রী সাধারণ ও পথচারীদের নিত্যনৈমতিক কাজে বিলম্বের সৃষ্টি হয়। এছাড়া জরুরী কোনো কাজ হলেতো মহা বিপদ ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন সন্ধ্যার পর দেখাযায় জিতু মিয়ার পয়েন্ট থেকে তালতলা, সুরমা মার্কেট, কোর্ট পয়েন্ট জিন্দাবাজার হয়ে চৌহাট্টা আম্বরখানা পর্যন্ত প্রায় পুরোটা সড়ক দখল হয়ে আছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যেন ঈদের বাজার। আশপাশের বিল্ডিং থেকে তাকালে এটা কোনো সড়ক নাকি বাজার তা বুঝা কষ্টসাধ্য। ফুটপাত থেকে রাস্তার অর্ধেক দখল করে হকাররা বিক্রি করছেন শীতের কাপড়। সেই কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় লেগে থাকা ক্রেতার চাপে দখল হয়েছে বাকি আরও কিছু অংশ। ক্রেতা হকারের পর বাকি যে অংশ তার কিছুটা সাড়িবদ্ধ সিএনজি অটোরিকশা এবং কিছু অংশ প্রাইভেট কারের পাকিংয়ের দখলে। সিএনজি, লেগুনাগুলো কোর্ট পয়েন্টের কাছে সাড়িবদ্ধভাবে থাকলেও সবুজ বিপনী পার হয়ে বাকি অংশ এলোমেলো প্রাইভেট কার, জিপ ইত্যাদির দখলে থাকতে দেখা গেছে। অনেকে রাস্তার মাঝখানে গাড়ি রেখে চলে যেতে দেখা যায়।

অনেক সময় ড্রাইভারবিহীন গাড়ী দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এমনিতেই যানজট তারমধ্যে ড্রাইভারবিহীন এই গাড়ির জন্য তৈরি হয় আরও জটলা। এই সড়কে শীতের কাপড়, জুতা, ছেলেদের আন্ডার গার্মেন্টস এবং রান্নাবান্নার সহযোগী তৈজসপত্র বিক্রির হকারদের সংখ্যা বেশি।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান,হলি সিলেট প্রতিবেদককে জানান প্রতিদিন ফুটপাতে নতুন নতুন দোকান বাড়ছে। বাহিরের লোকজন তাদের আত্মীয়স্বজন ভাই ভাতিজাকে এনে ফুটপাতে দোকান দিয়ে বসিয়ে দিচ্ছে কেননা নির্ধিষ্ট লোকদের চাঁদা দিলেই ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসার স্থান পাওয়া যায়। কালের বিবর্তনে সিলেট নগরী হয়ে উঠেছে হকারের নগরী।

অপরদিকে দুপুর থেকেই বন্দরবাজার থেকে জেলরোড পয়েন্ট হয়ে ওসমানী শিশুপার্ক পর্যন্ত সড়কের অর্ধেকের বেশি সবজিওয়ালাদের দখলে চলে যেতে দেখা গেছে। তারা সিটি কর্পোরেশন থেকে পোস্ট অফিসের সামনের অংশে কয়েক সারিতে রাস্তা দখল করে সবজি বিক্রি করছিলেন। ফুটপাত থেকে রাস্তার অর্ধেক দখলে চলে যাওয়ায় যানবাহন হাসান মার্কেটের গা ঘেষে মাত্র এক সাড়িতে চলাচল করার সুযোগ ছিল।

অবস্থা ভয়াবহ ছিল নগরীর আম্বরখানার। পয়েন্টের আশপাশ সিনএজি অটোরিকশার দখলে। বাকি অংশে বিভিন্ন পদের সামগ্রি নিয়ে হকারদের দখলে। মাঝে মাঝে রাস্তার উপর টুল-টেবিল বসিয়ে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সিম বিক্রিও করতে দেখা গেছে বিক্রয় কর্মীদের। সবকিছু মিলিয়ে নগরীর ব্যস্ততম রাস্তায় যেন এক হযবরল অবস্থা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। অনেকেই এ নিয়ে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন। তারা বলছেন সড়ক কী যানবাহনের নাকি হকারের? সড়ক যদি হকারের হাতেই দিয়ে দিতে হয় তাহলে যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা কোনো পথ কর্তৃপক্ষ তৈরি করুক।

এ অবস্থায় দুই দিন আগে মেয়র আনোয়রুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, এক মাসের মধ্যে হকারমুক্ত হবে নগরের ফুটপাত। তার এ বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে অনেকেই হকারমুক্ত ফুটপাত দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet