সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে আবারও বিশাল আকৃতির অজগর উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে জ্ঞানমুদ্রা বেদ ও গীতা পরিবার এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা শ্রীমঙ্গলে এক দিনে ৩টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে ঠাকুর ঘর থেকে পাতি বেত আঁচড়া সাপ উদ্ধার বন্যার্তদের মাঝে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের খাবার বিতরণ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে কিশোর ও শিশুর মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্টান মৌলভীবাজারের পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে ৩৩২ গ্রাম প্লাবিত ছাতকে বন্যার পানিতে থৈ-থৈ করছে উপজেলার সর্বত্র, ঘর-বাড়ি রাস্তা-ঘাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত,পানি বন্দী হাজার হাজার মানুষ ৩ দিনব্যাপী মার্শাল আর্ট সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ
এবার সিলেটে মনোনয়ন চান মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ

এবার সিলেটে মনোনয়ন চান মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ

এ এ রানা::
এক সময়ের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সিলেটে প্রথম প্রতিবাদ জানান তিনি। ১৯৮৪ সালে খন্দকার মোশতাক সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভা করতে আসেন। তৎকালীন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিসবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মোশতাককে গণপিটুনি দিয়ে সিলেট ছাড়া করেন। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ ১৭ মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন মিসবাহ উদ্দিন। সেসময়ও আটক হয়ে ৪৩ দিন কারাগারে ছিলেন।

বিভিন্ন সময় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বঞ্চিত হয়েছেন ভোটের মাঠে। দল তাকে পরিপূর্ণভাবে কখনও মূল্যায়ন করেনি বলে অভিযোগ তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের। এবার সিলেট-১ ও ৩ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রলীগ নেতা। ইতোমধ্যে মনোনয়ম ফরম তুলে জমাও দিয়েছেন। দলীয় প্রধান এবার তাকে মূল্যায়ন করলে বিপুল ভোটে জয়ী হতে পারবেন বলে আশা মিসবাহ উদ্দিনের।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সা‌লের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সারাদে‌শে ভয় আর নীরবতা বিরাজ কর‌ছিল। এর মধ্যেই সিলেটের বুকে প্রথম প্রতিবাদ জানায় মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এছাড়া ১৯৮৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী খন্দকার মোশতাক সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভা করতে আসেন। সেসময় তৎকালীন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মোশতাককে গণপিটুনি দিয়ে সিলেট ছাড়া করে। এ ঘটনার পরদিন ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেসময় দীর্ঘ ১৭ মাস কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান।

ওয়ান ইলেভেনে অনেক চাপের পরও তিনি দলের হয়ে মাঠে ছিলেন। নেতাকর্মীরা তাকে সবসময় পাশে পেয়েছেন। সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর নির্যাতন-প্রলোভন সত্ত্বেও পিছু হটেননি অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দুর্গ গড়ে তোলেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। সেসময়য় সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের হাতে ৪৩ দিন আটক ছিলেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল; যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে মিসবাহ উদ্দিনের নামও উল্লেখ ছিলো।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ বলছে, ২০০৪ সাল এবং ২০০৮ সালে দুই মেয়াদে বার কাউন্সিলের সদস্য ও দীর্ঘ ১০ বছর সিলেটের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মিসবাহ উদ্দিন। বৃটিশ রাষ্ট্রদুত আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৭৭ সালে ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। টানা তিনবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তবে দুর্দিনে দলের সঙ্গে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে অনেকটা বঞ্চিত মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

আওয়ামী লীগের সবশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে দলীয় কোনো পদ পাননি তিনি। এতে হতাশা বেড়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ১৯৭৭ সালে মদন মোহন কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, পরে সভাপতি হন তিনি। ১৯৮১ সালে বৃহত্তর সিলেটের চার জেলার সমন্বয়ে গঠিত সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৩ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হন তিনি।

মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ছাত্রজীবন শেষে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পন। পরবর্তী সময়ে ২০০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দুইদফা সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি টানা তিনবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রায় চার দশক ধরে হামলা-মামলা জেল-জুলুম সবকিছু উপেক্ষা করে দলের প্রয়োজনে মাঠে আছেন মিসবাহ সিরাজ। জঙ্গিরা কাফনের কাপড় পাঠিয়ে তাকে হুমকি দিয়েছিল। ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট সিলেটের গুলশান সেন্টারে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ১২ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেখতে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের আসেন।

মিসবাহ উদ্দিন বলেন, সিলেটের জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবার মাঠে নেমেছি। দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সিলেট-১ এবং সিলেট- ৩ আসনের জনগণের কাছে দোয়া চেয়েছি। কারণ আমি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবেন বলেও জানান সাবেক এই কেন্দ্রীয় নেতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet