সংবাদ শিরোনাম :
সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তের চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যের ২য় পর্বে জৈন্তাপুর উপজেলা বড়লেখায় পুলিশের অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সচেতন নাগরিক ফোরামের মানববন্ধন পরিবেশ অধিদপ্তরের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহবান চা কন্যার অজানা তথ্য নিয়ে আল ইকরাম নয়নের ভিডিও কন্টেন্ট সবজি ক্ষেতের জ্বালে আটকে পড়া দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার দক্ষিণ সুরমা থেকে ডিবি পুলিশের অভিযানে ০৩ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ি গ্রেফতার দক্ষিণ সুরমা থেকে ডিবি পুলিশের অভিযানে ০৩ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ি গ্রেফতার ডিবির অভিযানে খালিঘাট বস্তাপট্টি শরিফ ও জামালের  জুয়ার আস্তানা থেকে  খেলার সামগ্রী সহ ৩ জুয়ারী গ্রেফতার! ঈদ ও নববর্ষের টানা ছুটিতে চায়ের রাজ্যে ঢল নেমেছে পর্যটকের অবশেষে দক্ষিণ সুরমার শীর্ষ জুয়ারী কাশেমসহ পুলিশের হাতে আটক-৬, এখনো বহাল নজরুল-জামাল-অন্তরের জুয়ার প্রতারণা,
বেপরোয়া ভূমিখেকোর থাবায় লণ্ডভণ্ড খাদিম চা বাগান, গিলে খাচ্ছে হাজার কোটি টাকার সরকারী খাস জমি পরিবেশ ও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ?

বেপরোয়া ভূমিখেকোর থাবায় লণ্ডভণ্ড খাদিম চা বাগান, গিলে খাচ্ছে হাজার কোটি টাকার সরকারী খাস জমি পরিবেশ ও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ?

 

এ এ রানা;;
সিলেটের খাদিম নগরে বেপরোয়া ভূমিখেকো চক্র। মখলিছ-আবুল কালাম-সিরাজ মিয়া, গিলে খাচ্ছে হাজার কোটি টাকার সরকারি খাস জমি। লণ্ডভণ্ড পাহার, টিলা, উজার হচ্ছে বন, ভরাট হচ্ছ পুকুর। ঘুমিয়ে আছে পরিবেশ নির্বিকার পুলিশ। এমন অনিয়মেই খাদিম নগরে নিয়ম হয়ে দাড়িঁয়েছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, বেদখল হচ্ছে হাজার কোটি টাকার সরকারি খাস জমি।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় খাদিম নগর মৌজার জে এল নং ৭১ এর অন্তর্ভুক্ত খাদিম চা বাগানের জায়গা, দাগ নং ১১৪০,১১৪১,১১৪২,১১৫৫,১১৫৬,১১৫৭ সহ আরো অনেক দাগ খাদিম নগর মৌজার অন্তর্ভুক্ত সরকারী খাস জমি বন্দোবস্ত বা লিজের আওতায় খাদিম চা বাগানের জায়গা। সিলেট সদর উপজেলার ৪ নং খাদিম পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এলাকাধীন সুরমা গেইট বাগান বাড়ির বাসিন্দা মৃত সিদ্দেক আলীর পুত্র মোঃ মখলিছুর রহমান। আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়ে সরকারী খাস জমি জবর দখল করে তাহার লাঠিয়াল বাহিনীর সহযোগীতায় ষ্টাম্পের মাধ্যমে দেদারছে বিক্রি করছে। তাকে সহযোগীতা করছেন খাদিম চা বাগানের ম্যানেজার আতিকুর রহমান। আরো সাথে আছেন জাল দলিলের মেশিন চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলার সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী, তিনি ৪ নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বহর কলোনীর বাসিন্দা ও সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ এর ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে খাদিম চা বাগানের জায়গা দখল করে নিজের নামে মাঠ জরিপ করিয়েছেন। এসময় তিনি ঠিকানা দিয়েছেন জয়পুর, বালাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে।

খোজঁ নিয়ে জানাযায় আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারি বাগানের জায়গায় নিজের দুইটা এ্যালমুনিয়াম ফ্যাক্টরি বানিয়েছেন, সেই বাসন ফ্যাক্টরির নাম “আজাদ মেটাল এ্যালমুনিয়াম কারখানা” আর বাগানের জায়গায় নিজের দামান কে প্লট দিয়েছেন। নিজের বাগনি ও ভাতিজি কে ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। ভূমিখেকোরা ইতিমধ্যে প্রায় ৪শত প্লট বিক্রি করে শত কোটি টাকা লুটে নিয়েছে।

বহর কলোনীর বাসিন্দা মৃত সুলতান মোল্লার পুত্র মখলিছুর রহমান এর কেয়ারটেকার আক্কাস আলী। যিনি ২০বছর যাবৎ কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। বতর্মানে ২ বছর যাবৎ তিনি দায়িত্বে নেই।

ভূমিখেকো মখলিছুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারির রয়েছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী। এই বাহিনীর সদস্যরা হলেন বিএনপি সমর্থক কিছু নেতাকর্মী যাদের দিয়ে জবর দখল করে লুট পাট করছেন ভূমিখেকোরা।

প্রতিদিন রাতের আঁধারে সরকারি অনুমোদন ছাড়া। লেবার দিয়ে ভূমিখেকো চক্র পাহাড় টিলা কেটে পুকুর ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ষ্টাম্পের মাধ্যমে দখলীয় জমি কিনেছন মোঃ মামুন মিয়া গং। তিনি নিজের পায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সরকারী খাস জমি পাহাড় টিলা কেটে পুকুর ভরাট করে প্লট তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি অনুমোদন ছাড়া বিগত কয়েক দিন ধরে রাতের অন্ধকারে লেবার দিয়ে টিলা কেটে পুকুর ভরাট করছে মামুন গং বিষয়টি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যাক্তি সত্যতা যাচাই করে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিলেট শাহ পরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখিত ঘটনা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

সিলেট সদর খাদিম নগর খাদিম পাড়া বর্তমানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নং ওয়ার্ডের বিআইডিসি বহর পশ্চিম আল বারাকা রোডের শেষ খাদিম নগর মৌজার জে এল নং ৭১ এর অন্তর্ভুক্ত সরকারী খাস জমি বন্দোবস্ত লিজের আওতায় খাদিম চা বাগানের জায়গা দখল করে ষ্টাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করলেও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নীরব। সরকারি অনুমোদন ছাড়া পাহাড়, ঠিলা, বন কেটে প্লট তৈরি করছে এবং পুকুর ভরাট করে প্লট তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিতভাবে। অনুমোদন ছাড়া সরকারী খাস জমি চা বাগানের জায়গার উপর ফাঁকা ওয়ালের ঘর বাড়ী তৈরি করা হলেও প্রশাসনের নজরধারী না থাকায় ভূমিখেকোরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় বন ঠিলা চা বাগান লায়েক পতিত জংগল সাইল চারা উজাড় করে দিতেছে ভূমিখেকো মখলিছ-আবুল কালাম পাটোয়ারি,সিরাজ মিয়া গং ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী।
সরকারী খাস জমি চা বাগানের জায়গার উপর ফাঁকা ওয়ালের ঘর বাড়ী তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের জাল দলিল তৈরি করে মামলা দায়ের করে মামলা চলাকালীন সময়ে নিজের নামে পরিচিত বস্তি এলাকা বানিয়ে দখল করে নিচ্ছে ও ঐ দখলীয় জমি স্টাম্পের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।

বন্দোবস্ত বা লিজ দেওয়া হয় শুধু মাত্র খাদিম চা বাগানের নামে যাহা পূর্বে খাদিম টি গার্ডেন নামে পরিচিত ছিল। সাবেক বন্দোবস্ত লিজ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ২০১২ইং সাল থেকে ২০৩২ইং সাল পর্যন্ত নিনা আফজাল হোসেন চৌধুরীর নামে বন্দোবস্ত লিজ দেওয়া হয়।

কিন্তু কয়েক বছর ধরে অনুমোদন ছাড়া সরকারী খাস জমি চা বাগানের জায়গা জবর দখল করে নিচ্ছে ও দখলকৃত জমি স্টাম্পের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রিত ভূমিতে পাহাড় বন ঠিলা কেটে প্লট তৈরি করা হচ্ছে এবং প্লট তৈরি করে ফাঁকা ওয়ালের ঘর বাড়ী তৈরি করে বসবাস করছে খরিদা মালিকরা। প্রশাসন নিরব?

কয়েক বছর আগে ভূমিখেকো মখলিছুর রহমান গং মামুন চৌধুরীর কাছে দখলীয় জমির ৬ ডিসিমিল স্টাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করেন। পরে পুুকুরে আরো দুটি প্লটে ৫ ডিসিমিল করে ১০ ডিসিমিল বিক্রি করেন। বর্তমান মামুন চৌধুরী আরো ৩০ডিসিমিল দখলীয় জমি কিনে তার নিজের পায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে পাহাড় টিলা কেটে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মান করছে। যাহা সরেজমিনে পাওয়া যায়। এছাড়াও ইসমাইল মিয়া, বহর কলোনীর মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে খাস জমি বিক্রি করা হয়েছে। সুমি বেগম নামের এক মহিলাকে বেআইনী বসিয়ে দখল করে নিচ্ছে খাস জমি।

বাগান ম্যানেজার আতিকের সহযোগীতায় মখলিছুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ পাটুওয়ারি, সিরাজ মিয়াগং মিলে ইতিমধ্যে ৪শত প্লট বিক্রি করলেও কিছুই জানেনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়, তথ্য নেই সিলেট সদর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র কাছে। অদৃশ্য কারনে তাদের নিরব ভূমিকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে? তাহলে কি সবাই অনিয়মে জড়িত, তাই বন্ধ হচ্ছে সরকারী খাস জমি বিক্রি। এমন ধারনা এখন জনমনে।
পাহাড় টিলা কাটার খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করছে এবং নোটিশ দিয়ে অফিসে তলব করে। ভূমিখেকোরা পরিবেশ অধিদপ্তরে গিয়ে হাজিরা দিয়ে ফিরে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে পাহাড় টিলা কাটায় জড়িয়ে পড়ে। এর কারণ ভূমিখেকোরা অবৈধ কাজ হাসিলে পরিবেশ অধিদপ্তরকেও ম্যানেজ করে নেয়।
পুলিশের ভূমিকাও একই, তারা টিলা কাটার খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে আটক করে নিয়েযায় আবার ছেড়েও দেয়। ভূমিখেকোরা সবাইকে বড় অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই সরকারের হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট করছে।

বাগান ম্যানেজার আতিক এই প্রতিবেদককে বলেন এখানে কোন জমি বিক্রি হচ্ছেনা, পাহাড় টিলাও কাটা হচ্ছেনা। তাহলে কিভাবে বাড়ীঘর হচ্ছে, আর কিভাবে পাহাড় টিলা কাটা কেন এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননাই।

কেয়ারটেকার আক্কাস আলী এই প্রতিবেদককে বলেন ২০বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করেছি, এখন দুই বছর হলো আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি। তবে মাঝেমধ্যে মখলিছ সাহেব ডাকলে যাই। খাস জমি কিভাবে বিক্রি করতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রথমে যখন জমি বিক্রি করা হয় তখন কয়েকটি ষ্টাম্পে লেখা ছিলো দলিল করে দিতে না পারলে সমস্ত ক্ষতিপুরণ দিবো এর পরে যা বিক্রি হয়েছে সেখানে আর এসব লিখা হয়নি। মামলা চলমান থাকাবস্তায় কিভাবে জমিবিক্রি করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন মখলিছ সাহেব বলতে পারবেন।

বাগানের লীজ গ্রহিতা আফজাল রশীদ চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন খাস জমি দখল বিক্রি ও পাহাড় টিলা কাটার ব্যাপারে কয়েকবার সিলেটের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও বন্ধ হচ্ছেনা টিলা কাটাসহ অবৈধ বেচাকেনা।

এ ব্যপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন মামলা চলমান থাকাবস্তায় কোন ধরনের স্থাপনা নির্মান বা বাড়ীর দেওয়াল করা যাবেনা। এরকম কিছু হলে আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet