সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে আবারও বিশাল আকৃতির অজগর উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে জ্ঞানমুদ্রা বেদ ও গীতা পরিবার এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা শ্রীমঙ্গলে এক দিনে ৩টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে ঠাকুর ঘর থেকে পাতি বেত আঁচড়া সাপ উদ্ধার বন্যার্তদের মাঝে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের খাবার বিতরণ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে কিশোর ও শিশুর মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্টান মৌলভীবাজারের পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে ৩৩২ গ্রাম প্লাবিত ছাতকে বন্যার পানিতে থৈ-থৈ করছে উপজেলার সর্বত্র, ঘর-বাড়ি রাস্তা-ঘাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত,পানি বন্দী হাজার হাজার মানুষ ৩ দিনব্যাপী মার্শাল আর্ট সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ
রিক্সাচালক থেকে জুয়ারী কাশেম এখন কোটিপতি(২য় পর্ব)

রিক্সাচালক থেকে জুয়ারী কাশেম এখন কোটিপতি(২য় পর্ব)

রিক্সাচালক থেকে জুয়ারী কাশেম এখন কোটিপতি(২য় পর্ব)
এ এ রানা::
এক সময়ের ভাংঙ্গারী কুড়ানো, রিক্সাচালক আবুল কাশেম এখন কোটিপতি। তিনি নগরীর দক্ষিণ সুরমার অন্ধকার রাজ্যের রাজা। অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত সুরমা মহলের কর্ণধার।

সিলেটের অন্ধকার জগতের নিয়ন্ত্রক নোয়াখালীর বাসিন্দা মৃত কালু মিয়ার পুত্র কাশেম একাধারে শীর্ষ জুয়ারী, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের গডফাদার। তার এসব অপরাধ নির্বিঘ্ন করতে গড়ে তুলেছেন জুয়া-মাদকের নিরাপদ আস্তানা “সুরমা মহল” নামক অবৈধ পাপরাজ্যে।

নগরীর দক্ষিণ সুরমার জিঞ্জিরশাহ মাজার সংলগ্ন সাধুরবাজার বাশপালা মার্কেটে রেলওয়ের কলোনীর এক সময়ের ভাড়াটিয়া পরবর্তীতে লিজ নিয়ে অপরাধী কাশেম স্বপরিবারে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন যাবৎ।

একই স্থানে দীর্ঘদিন বসবাস করার ফলে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু চিহ্নিত অপরাধী এবং প্রভাবশালী পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্যদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে।

তার অনৈতিক অপরাধ নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয়রা যাতে বাধাঁ দিতে না পারে সেজন্য স্থানীয় কিছু অপরাধীদের শেল্টারদাতা হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বর্তমানে আবুল কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিন দক্ষিণ সুরমার শীর্ষ জুয়ারী, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের আশ্রয়দাতা। যাহা সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় তা প্রমাণিত।

১২ আগষ্ট শনিবার দুপুরে সরেজমিন দক্ষিণ সুরমার জিঞ্জিরশাহ্ মাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানাযায় কাশেম চক্রের বিরোদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর ভিন্ন চিন্তা করছে জুয়ারী কাশেম। সে তার নিয়ন্ত্রণাধীন সকল জুয়ারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছে। বিশ্বস্থ সুত্রে জানাযায় বৈঠকে সিদ্দান্ত হয় সুযোগ পেলে তাহার বিরোদ্ধে যে সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করেছে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি অথবা হামলা করে চিরতরে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়ার। স্থানীয়রা আরো বলেন এত কিছুর পরও পুলিশ কাশেম ও জেসমিনকে আটক না করায় স্থানীয়রা হলি সিলেটের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন কাশেম-জেসমিনের খুটির জোর কোথায়।

২০০২ইং সালে রেলওয়ে কলোনীতে আসার পর তিনি জড়িয়ে পরেন বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে। শুরু হয় কাশেমের নতুনভাবে পথচলা, জি এর কাজ ত্যাগ করেন স্ত্রীও। ২০০৫ইং সাল থেকেই সবকিছু ছেড়ে কাশেম জুয়ার ব্যবসায় মনোযোগী হোন, সঙ্গে মেয়ে জেসমিনকে রাখেন, পাশাপাশি তিনি মাদক ব্যবসা করেন। ২০০৭ ইং সালে কাশেম জিঞ্জিরশাহ মাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনীর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ২০ ফুট প্রস্ত কলোনী রেলওয়ের কাছ থেকে ৭(সাত) লক্ষ টাকায় লিজ নেন। লিজ নেওয়ার পর সেখানে গড়ে তুলেন “সুরমা মহল” নামক এক অন্ধকার রঙ্গীন আস্তানা। সেই আস্তানায় জুয়ার পাশাপাশি চলে মাদক সেবন ও বিক্রি। কারণ কাশেমের সম্মতি ছাড়া সুরমা মহলে অবৈধ মাদক বিক্রি করার সাহস কে করবে, তাই সাধারণ মানুষের ধারনা কাশেম-জেসমিন মাদক ব্যবসায় জড়িত। যে কারণে কাশেম বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলও খেটেছে।

পরবর্তীতে কাশেম জিঞ্জিরশাহ মাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনী মার্কেটে আরও ৪ টি দোকান কোটা ২৮ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। শুধু তাইনা রেলওয়ে লিজের জমি থেকে আরও প্রায় ৫০ফুট অতিরিক্ত অন্য আরেক জনের লিজের জমি তিনি জোরপূর্বক ভোগদখল করছেন ক্ষমতাবলে।

জুয়ার প্রতারণা ও মাদকের অবৈধ ব্যবসা করে কাশেম নগরীর দক্ষিণ সুরমার পিরিজপুর এলাকায় তিনতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা বিল্ডিং ৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। ঐ বাসায় সম্প্রতি দুটি গরু জবাই করে মিলাদ মাহফিল ও শিরনি বিতরণ করেছেন। মিলাদে ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ সিনিয়র সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মহানগরীর সাহেব বাজারে ছেলের শশুরবাড়ী এলাকায় কোটি টাকা খরচ করে ৯০ ডিসিমিল জমি কিনেছেন। বর্তমানে সেই জমির কিছু অংশে একটি বিল্ডিং করতে ৩ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করে কাজ শুরু করেছেন, মেয়ে জেসমিন সেই বিল্ডিং এর কাজ তদারকি করতে এখন সাহেব বাজারে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানিয়েছে। কাশেম ১৩লক্ষ টাকা খরচ করে ছেলে এবং মেয়ে জামাইকে দুবাই পাঠিয়েছেন। কিনেছেন পিকআপ, সিএনজি,মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। এছাড়াও প্রায় ১৫লক্ষ টাকা ব্যায় করে তিনবার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। সুত্র আরও জানায় মাতৃভূমি নামে একটি সমবায়সমিতি গঠন করেছেন কাশেম। ঐ সমিতি থেকে বিভিন্ন দোকানে ১০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন বিতরণ করা হয়। সমিতিতে বর্তমানে ১০কোটি টাকার মূলধন আছে। যাহা ৭০% লাভে দৈনিক ভিত্তিতে কিস্তি আদায় করা হয়। এ সবই কাশেমের জুয়ার প্রতারণা ও মাদকের ব্যবসার টাকা। শুধু তাইনা বিভিন্ন ব্যাংকে কাশেমের নামে আরও ৫ কোটি টাকা রক্ষিত থাকার দাবী স্থানীয়দের। সম্প্রতি ১লক্ষ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে রেলওয়ের কলোনীতে দুটি রুম লিজ নিয়েছেন তিনি।

একজন রিক্সাচালক ও ভাংঙ্গারী কুড়ানো টুকাই মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকা, বাড়ী, গাড়ী, জমি, দোকান কোটার মালিক হয়েছে অবৈধ পথে। কাশেম প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জুয়ার নামে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট করছে, আার অন্যদিকে মাদক বিক্রির মাধ্যমে যুবসমাজকে অন্ধকারের দিকে টেলে দিয়ে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়,পরিবারে বাড়ছে অশান্তি ও অস্তিরতা এবং সমাজে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড।

দক্ষিণ সুরমার সাধারণ মানুষ জুয়ারী মাদক ব্যবসায়ী কাশেমকে আইনের আওতায় এনে তাহার সুরমা মহল নামক অন্ধকার আস্তানা বন্ধ করে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলি সিলেটের মাধ্যমে মহানগর পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। আর সচেতন মহল কাশেমের অবৈধ সম্পদের খোজঁ নিতে দূর্ণীতি দমন কমিশন (দূদক) এর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তারা বলেন ঢাকায় ক্যাসিনো সম্রাটরা যেভাবে নিজ ঘরে টাকার ব্যাংক বানিয়ে ছিলো, ঠিক তেমনিভাবে সিলেটের জুয়ারী কাশেম প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের আস্তানায় মিনি ব্যাংক বানিয়ে ফেলেছে।

এব্যপারে জুয়ারী কাশেমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আপনি শুধু আমাকে দেখেছেন, আমার এখানে যারা কাজ করতো যেমন জামাল, অন্তর, মানিক, মজনু, তাহের, ফয়ছল ওরা সবাই একেকটা জুয়ার বোর্ডের মালিক। তাদেরকে আপনার চোখে পরেনা বলে লাইন কেটেদেন। আগামী পর্বে থাকবে মাতৃভূমির কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন (চলবে)

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet