সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে আবারও বিশাল আকৃতির অজগর উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে জ্ঞানমুদ্রা বেদ ও গীতা পরিবার এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা শ্রীমঙ্গলে এক দিনে ৩টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে ঠাকুর ঘর থেকে পাতি বেত আঁচড়া সাপ উদ্ধার বন্যার্তদের মাঝে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের খাবার বিতরণ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে কিশোর ও শিশুর মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্টান মৌলভীবাজারের পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে ৩৩২ গ্রাম প্লাবিত ছাতকে বন্যার পানিতে থৈ-থৈ করছে উপজেলার সর্বত্র, ঘর-বাড়ি রাস্তা-ঘাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত,পানি বন্দী হাজার হাজার মানুষ ৩ দিনব্যাপী মার্শাল আর্ট সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ
হলি সিলেট ” এ ” সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ১১ জুয়াড়ি আটক। জুয়ারীদের গড ফাদাররা রয়েছে বহাল তবিয়তে।

হলি সিলেট ” এ ” সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ১১ জুয়াড়ি আটক। জুয়ারীদের গড ফাদাররা রয়েছে বহাল তবিয়তে।

এ এ রানা
হলি সিলেট অনলাইন ভার্সনে গত ২১ জুলাই
অন্ধকার জগৎ সুরমা মহলের ভয়ংকর জুয়ারী কাশেম- জেসমিনের খুঁটির জোর কোথায় ? শিরোনামে
সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়েছে দক্ষিণ সুরমা থানার  পুলিশের। ঐ দিন ২১জুলাই শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টায় সিলেট মহানগর পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তার নির্দেশে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ সামছুদ্দোহা পিপিএম এর নেতৃত্বে ওসি তদন্ত আবুল হোসেন এর সার্বিক সহযোগীতায় নগরীর দক্ষিণ সুরমা  জিঞ্জিরশাহ্ মাজার সংলগ্ন সাধুরবাজার, কীনব্রিজের নিচ ও চাঁদনীঘাট মাছ বাজার নজরুল ও আলআমিনের আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১১ জুয়ারীকে আটক করতে সক্ষম হয় । এসময় তাদের কাছ থেকে জুয়ার সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে জুয়ারীদের আটক করা হলেও বোর্ড মালিকরা রয়েছে বহাল তবিয়তে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে এই প্রতিবেদককে বলেন, যাদেরকে পুলিশি অভিযানে আটক করেছে তারা সবাই খেলতে আসা জুয়ারী তবে জুয়ার আস্তানার বোর্ড মালিকরা   আটক  হয়নি। জুয়া বন্ধ করতে হলে এসব জোয়ার বোর্ড মালিকদের আটক করে আইনের আওতায় আনতে হবে

জিঞ্জিরশাহ্ মাজার সংলগ্ন সাধুরবাজার বাশপালা মার্কেটে অন্ধকার রাজ্যে হিসেবে পরিচিত জুয়া-মাদকের নিরাপদ আস্তানা সুরমা মহলে পুলিশি অভিযানকালে অবৈধ আস্তানার হোতা কাশেম-জেসমিন চক্রের সদস্যরা জেসমিনের নেতৃত্বে  পুলিশের উপর হামলার উদ্দেশ্যে বেশ চড়াও হয়েছে এমনটাই শুনা   যায়।  এই স্পট থেকে শুধু ১জনকে আটক করে পুলিশ। বাকীদের কীনব্রিজের নীচ ও চাঁদনীঘাট আস্তানা থেকে আটক করা হয়।

 

* ১। সোহাগ মিয়া (২২), পিতা-মো: হারুন মিয়া, সাং- ভার্থখলা, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট, ২। সালেক মিয়া (৪০), পিতা-মৃত ময়না মিয়া, সাং-চাঁদনীঘাট, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট, ৩। আমিরুল ইসলাম (৪০), পিতা-মৃত মকছেদ সরদার, সাং-নওদা কল্যাণপুর, থানা-মিরপুর, জেলা-কুষ্টিয়া, বর্তমানে মেটাল প্লাস, কদমতলী, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট, ৪। মো: সুজন মিয়া (৪০), পিতা-মৃত রইছ আলী, সাং-বাহাপুর, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট, ৫। রণরায় (৩৮), পিতা-মৃত ননি গোপাল রায়, সাং-আনন্দপুর, থানা-শাল্লা, জেলা-সুনামগঞ্জ, বর্তমানে- মুছারগাঁও, তাজুল মিয়ার কলোনী, সাউথ সুরমা সিএনজি পাম্পের পাশে, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট, ৬। আলম (২৫), পিতা-ইছাক আলী, সাং-শিমুলতলা, থানা-ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ, বর্তমানে জেলরোড, মুর্শেদের বাড়ী, থানা-কোতয়ালী, জেলা- সিলেট, ৭। খালেদ আহমদ (২৬), পিতা-রুয়াব আলী, সাং-রপিপুর, নোয়াবাড়ী, থানা-গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ৮। রাজন মিয়া (২০), পিতা-ওয়ারিছ আলী, সাং-রপিপুর, নোয়াবাড়ী, থানা-গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ৯। আব্দুল কালাম (৪৭), পিতা-মৃত সাজিদ উল্লাহ, সাং-মজিদপুর, থানা-ওসমানীনগর, জেলা-সিলেট, ১০। সজল সুত্রধর (৩৮), পিতা-মহেশ সূত্রধর, সাং-দাওরাই, থানা-জগন্নাথপুর, জেলা-সুনামগঞ্জ, বর্তমানে-বালুচর, থানা- শাহপরান (রহ:), জেলা-সিলেট, ১১। নিখিল পাল (৪৫), পিতা-বীরেন্দ্র পাল, সাং-চাঁদনীঘাট, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট

 

এদিকে জিঞ্জিরশাহ্ মাজার সংলগ্ন সাধুরবাজার বাশপালা মার্কেটে অন্ধকার রাজ্যে হিসেবে পরিচিত জুয়া- মাদকের নিরাপদ আস্তানা সুরমা মহলে পুলিশি অভিযানকালে এই আস্তানা থেকে ৩ জুয়ারীকে  আটক করলেও শুধু একজন জুয়ারীকে আটক করে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে মহিলা পুলিশ সঙ্গে না থাকায় জুয়ারী জেসমিনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।  প্রত্যেক্ষদর্শীরা বলেন, এসময় অবৈধ আস্তানার হোতা কাশেম-জেসমিন চক্রের সদস্যরা জুয়ারী জেসমিনের নেতৃত্বে আটককৃত আমজাদ ও আসাদ নামে দুই জুয়ারীকে ছিনিয়ে নেয় পুলিশের কাছ থেকে।

দক্ষিণ সুরমার জুয়া ও মাদক আস্তানার সাথে জড়িত যেসব বেকার ও নিন্ম আয়ের মানুষ তারা জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাতে চুরি,ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। তারই প্রমান বিভিন্ন সময় পুলিশি অভিযানে বিভিন্ন আস্তানা থেকে অপরাধী আটক করা হয় ।

গত ১৭ জুলাই দক্ষিণ সুরমা থেকে ১৫০ গ্রাম গাঁজা সহ কালাচাঁন নামক এক মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারী এবং
এর কিছুদিন আগে সাধুরবাজার বাশপালা মার্কেটের পিছনে কাশেম-জেসমিন চক্রের অবৈধ আস্তানা থেকে চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। এসময় বিভিন্ন স্থান থেকে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়, আটককৃতরা  সুরমা মহল আস্তানায় জুয়ার টিকেট কাটে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাশপালা মার্কেটের এক ব্যবসায়ী এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রায় সময় জুয়ার দান নিয়ে বড় রকমের মারা মারি, গালিগালাজ, দাঙ্গা হাঙ্গামার সৃষ্টি হয় । এতে আমরা আশপাশের ব্যাবসায়ীরা বেশ আতংকের মধ্যে থাকতে হয়। আর কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল হোসেনকে বলেও কোনো লাভ নেই। তার সাথে রয়েছে এসব অপরাধীদের গলায় গলায় ভাব। তিনি আরোও বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিভিন্ন সময় পুলিশের জোরালো অভিযান পরিচালিত হলেও অপরাধী দের কাছে তার আগেই খবর চলে আসে কি ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী নিরিহ ব্যাবসায়ীদের ।

* এছাড়া বিভন্ন সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে কিছু সংখ্যক জুয়ারী আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায় সুরমা মহল আস্তানার গডফাদার আবুল কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিন, পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন, মার্কাস পয়েন্ট, রেলওয়ে হাসপাতাল (মন্দিরের পাশে)’র
আস্তানার জামাল, আলমগীর, মস্তকিন, আনোয়ার, শিপলু ও রিপন সহ আরো অনেকেই।

* ক্নীন ব্রীজের নিচে.. আকতার, মানিক, তাহের, জামাল,আকাশ গংরা রয়েছে এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাহিরে। এদের আটক করে ক্নীন ব্রীজের নিচ ও আশপাশের এলাকাকে জুয়া মুক্ত করতে ও এলাকাকে  পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় আনার জোর দাবী।

* ক্নীন ব্রীজের নিচে মেথর পট্টিতে মজনু ও তার স্ত্রী রহিমা তার শালা শীলং তীর খেলা, তিন তাস, ও কাটাকাটি গাঁজা বিক্রয় যেন একেবার ওপেন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মজনু পুলিশের হাতে আটক হলেও তার স্ত্রী রহিমার নেতৃত্বে জুয়া, গাঁজা ও মদ বিক্রি চলে। মজনুর নানা অপকর্ম নিয়ে আগামী পর্বে থাকবে বিস্তারিত…

এসব আস্তানায় প্রতিদিন দুপুর ২ ঘটিকা থেকে রাতভর চলে নিরাপদ আস্তানা সুরমা মহলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আনাগোনা। কারণ খোজঁতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অন্ধকার জগতের প্রতারণা ও নানা অপকর্মের কাহিনী ।

স্থানীয় সুত্রে এবং অনুসন্ধানে জানাযায় সুরমা  মহলে দুপুর থেকে রাতভর চলে জুয়া, মাদক বিক্রি, সেবন ও সমাজ বিরোধী অনৈতিক আরও অনেক অপকর্ম। ইতিমধ্যে সুরমা মহলটি নগরবাসীর কাছে অন্ধকার জগৎ বা জুয়ার রাজ্যে নামে পরিচিতি পেলেও বন্ধ করতে পারছেনা প্রশাসন। লোক মুখে প্রচারিত  প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান করতে গেলে জুয়ারী কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্র-  নিয়ে পুলিশের উপর আক্রমন চালায়। কতটা বেপরোয়া আর উশৃংখল হলে পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়। তাই এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বাশপালা মার্কেট ও সুরমা মহল এলাকাকে নিরাপদ রাখতে পুলিশের কার্য্যক্রম আরো বৃদ্ধি করার দাবী জনগনের।

 

এই মহলকে পাপরাজ্য নামে সবাই চেনে প্রকাশ্যে দিবালোকে রমরমা জুয়া ও মাদকের ব্যবসা, ছুরি- ছিনতাই চালিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিন। অথছ পুলিশ এ চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। বিষয়টির প্রতি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আরো সু দৃষ্টি দেয়া একান্ত প্রয়োজন বলে সচেতন মহলের জোর দাবী। চলবে…..

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet