সংবাদ শিরোনাম :
ছাতকে ভারতীয় চিনি বোঝাই ট্রাক সহ আটক ১ ছাতকে ভূমিহীন-গৃহহীন ৬৮টি পরিবার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ছাতক পৌরসভায় টিএলসিসি’র বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের আয়োজনে ওয়ার্ড সভা অনুষ্ঠিত দিরাইয়ের করিমপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আয়োজনে ওয়ার্ড সভা অনুষ্ঠিত নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ আ্যওয়ার্ড ২০২৪ পদকে ভুষিত হলেন অধ্যাপক হরি দাস রায়।। দিরাইয়ে এফআইভিডিবি-আরইসিসি প্রকল্পের সহযোগিতায় ওয়ার্ড সভা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর নির্মিত অবৈধ ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ জুড়ীতে পানিতে ডুবে দুই শিশু ও রাজনগরে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু মৌলভীবাজারে কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা
অন্ধকার জগৎ সুরমা মহলের ভয়ংকর জুয়ারী কাশেম- জেসমিনের খুটির জোর কোথায়

অন্ধকার জগৎ সুরমা মহলের ভয়ংকর জুয়ারী কাশেম- জেসমিনের খুটির জোর কোথায়

 

এ এ রানা::
মহানগরীর অন্ধকার রাজ্যে হিসেবে পরিচিত জুয়া-মাদকের নিরাপদ আস্তানা সুরমা মহল ও রেলওয়ে হাসপাতালের পিছনে জুয়া মাদকের রমরমা ব্যবসা নিয়ে দক্ষিণ সুরমায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারীদের এমন কর্মকান্ডে সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে। তারা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন পুলিশ যদি এভাবেই নীরব থাকে তাহলে আমাদের সন্তানদের রক্ষায় নিজেরাই জুয়ারীদের আস্তানা ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হবো। পুলিশ প্রশাসন যুবসমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করার কথা, অথচ তারা জুয়ারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে যুবসমাজকে অন্ধকারে টেলে দিচ্ছেন।

ফলে দক্ষিণ সুরমার বেকার ও নিন্ম আয়ের মানুষ জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাতে চুরি,ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরছে। তারই প্রমান বিভিন্ন সময় পুলিশি অভিযানে অপরাধী আটক।

উল্লেখ্য গত ১৭জুলাই দক্ষিণ সুরমা থেকে ১৫০গ্রাম গাজা সহ কালাচান নামক এক মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারীকে আটক করেছে দক্ষিন সুরমা থানা পুলিশ।

এর কিছুদিন আগে সাধুরবাজার বাশপালা মার্কেটের পিছনে কাশেম-জেসমিন চক্রের অবৈধ আস্তানা থেকে চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। এসময় বিভিন্ন স্থান থেকে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়,যারা সুরমা মহল আস্তানায় জুয়ার টিকেট কাটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাশপালা মার্কেটের এক ব্যবসায়ী এই প্রতিবেদককে বলেন মাঝেমধ্যে জুয়ার দান নিয়ে মারা মারি, গালিগালাজ ঝগড়া হয়।

বিভন্ন সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে কিছু সংখ্যক জুয়ারী আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায় সুরমা মহল আস্তানার গডফাদার আবুল কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিন, পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন, মার্কাস পয়েন্ট, রেলওয়ে হাসপাতাল (মন্দিরের পাশে)’র
আস্তানার জামাল, আলমগীর, মস্তকিন, আনোয়ার, শিপলু ও রিপন।

প্রতিদিন দুপুর ২ঘটিকা থেকে রাতভর চলে নিরাপদ আস্তানা সুরমা মহলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আনাগোনা। কারণ খোজঁতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অন্ধকার জগতের প্রতারণা ও নানা অপকর্মের কাহিনী ।

স্থানীয় সুত্রে এবং অনুসন্ধানে জানাযায় এই মহলে দুপুর থেকে রাতভর চলে জুয়া, মাদক বিক্রি, সেবন ও সমাজ বিরোধী অনৈতিক আরও অনেক অপকর্ম। ইতিমধ্যে সুরমা মহলটি নগরবাসীর কাছে অন্ধকার জগৎ বা জুয়ার রাজ্যে নামে পরিচিতি পেলেও বন্ধ করতে পারছেনা প্রশাসন।

এই মহলে প্রকাশ্যে দিবালোকে রমরমা জুয়া ও মাদকের ব্যবসা চালিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিন।

শুধু তাইনা সাধুরবাজার বাঁশফালা মার্কেট, জিঞ্জির শাহ মাজার সংলগ্ন, পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন, মার্কাস পয়েন্ট, রেলওয়ে হাসপাতালের (মন্দিরের পাশে), প্রকাশ্যে দিবালোকে অবাধে চলছে জুয়া,মাদক বিক্রি ও সেবন।

পুরাতন রেলস্টেশন, মার্কাস পয়েন্ট, রেলওয়ে হাসপাতাল ও মন্দিরের পাশে অবৈধ জুয়া ও মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে জামালের নেতৃত্বে। তাহার সাথে আছে গাজা ব্যবসায়ী কালাচান, আলমগীর, মস্তকিন, আনোয়ার, শিপলু ও রিপন।

এ নিয়ে স্থানীয়রা জুয়ারীদের মূলহোতা জিঞ্জির শাহ মাজার এলাকার মৃত কালু মিয়ার পুত্র আবুল কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিন ও জামাল গং এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের পর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে অপরাধীরা। তাদের অপকর্মের পাশা-পাশি উলটো অভিযোগকারীদেরকে হুমকি-ধামকি দেয়, বাদ যায়নি সাংবাদিকও।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমার জিঞ্জির শাহ মাজার এলাকায় আবুল কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে জুয়া ও মরণ নেশা মাদকের নিরাপদ আস্তানা সুরমা মহল । সাধুরবাজার বাঁশফালা মার্কেট, জিঞ্জির শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায়
এই রঙ্গিন মহলে দিনেরাতে চলে মাদক বিক্রি, ভারতীয় জুয়া শিলং তীর, ঝান্ডুমান্ডু, তিন তাস নামক জুয়ার অবৈধ ব্যবসা।

প্রশাসনের গুটি কয়েক অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিন এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

তাদের গড়া এসব আস্তানায় স্কুল-কলেজের ছাত্র, দিনমজুর, রিকশাচালক, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জুয়া ও মাদকে আসক্ত হয়ে অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। ফলে একদিকে যেমন যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবীত হচ্ছে, অন্যদিকে জড়িয়ে পড়ছেন চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে।

সুরমা মহলে গড়ে তোলা অবৈধ আস্তানার বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এলাকাবাসী একাধিক বার সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করলেও বন্ধ হচ্ছেনা অপরাধীদের কর্মকান্ড।

সরজমিনে সাধুরবাজার বাঁশফালা মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রেলওয়ের জায়গা লিজ নিয়ে জুয়ারী কাশেম তৈরি করেছে সুরমা মহল নামক আস্তানা। সেখানে প্রকাশ্যে চলছে ইয়াবা, গাঁজা, সেবন ও বিক্রি। পাশাপাশি চলছে ভারতীয় তির শিলং, ঝান্ডুমান্ডু, নাইট তির নামক জুয়ার রমরমা আসর। যারা এসব খেলা খেলছেন তাদের অধিকাংশই তরুণ ও দিনমজুর। বেশী লাভের আশায় স্থানীয় কলোনীর মহিলারাও জড়িয়ে পড়েছে এসব খেলায়। মাঝেমধ্যে প্রশাসন অভিযান দিলেও মূলহোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আবুল কাশেম ও তার মেয়ে জেসমিনের অবৈধ আস্তানা নির্বিঘ্নে চালাতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা তাকে সহযোগিতা করছেন। চলবে………………..

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet