সংবাদ শিরোনাম :
জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে চলছে প্রশাসনের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় বাণিজ্য! বড়লেখায় ৪ ছিন্তাইকারী গ্রেপ্তার, ছিন্তাইকৃত সিএনজি ও টাকা উদ্ধার বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে লাউয়াছড়ায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান লাউয়াছড়া উদ্যানে জিপ উল্টে নৃত্য শিল্পীসহ আহত ৭ বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে : মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী কুলাউড়ায় নববধুকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও ভাবী আটক সিলেট কিনব্রিজের নিচে সাইনবোর্ডে ঝুলন্ত যুবকের লাশ! শ্রীমঙ্গলে জগদ্বন্ধু আশ্রমের উদ্বোধন লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর আগমন মৌলভীবাজারে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১ শ্রীমঙ্গলে শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু আশ্রমের দ্বারোদঘাটন উৎসব, নগর সংকীর্তন ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
গোয়াইনঘাটে চোরাকারবারি মোস্তফা চক্রের কাছে অসহায় থানা পুলিশ!

গোয়াইনঘাটে চোরাকারবারি মোস্তফা চক্রের কাছে অসহায় থানা পুলিশ!

 

এ এ রানা:::
সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং সীৃমান্তের জিরো পয়েন্ট সিঁড়ির ঘাট, গুচ্ছগ্রাম লালটিলা, সোনাটিলা, তামাবিল ও নলজুরী এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় চেরাকারবারী দলের সদস্যরা কতিত সোর্স বা লাইনম্যানরা মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ, ডিবিপুলিশ ও কিছু বখরাবাজ সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণ করছে। যার ফলে তারা সকলেই নিরব ভূমিকা পালন করছেন।

জানা গেছে- জাফলং জিরো পয়েন্ট সিড়িঁর ঘাট ও গুচ্ছগ্রাম লালটিলা জুড়ে প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় দেদারছে চলছে চোরাকারবার। ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ব্যান্ডের বিড়ি-সিগারেট, মাদকজাত দ্রব্য ইয়াবা, ফেন্সিড্রীল, বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, ভারতীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট, মটর সাইকেল, ভারতীয় শাড়ি, কসমেট্রিক্স, চা-পাতা ও ঔষধ সামগ্রী। এসব পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। মৃত্যু সহ পঙ্গুত্ব বরণ করছে সাধারণ জনগণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে অবাঁধে আসছে ভারতীয় গরু মহিষ, চা-পাতা, চিনি, পান মসলা সহ ভারতীয় পণ্যের চালান। যার বিপরীতে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে মূল্যবান খাদ্য পণ্য সামগ্রী মটরশুঁটিসহ বৈদেশিক মূদ্রা। শুধু মাত্র গুচ্ছগ্রাম এলাকার মনজুর আলীর পুত্র মোস্তফার হাত ধরে বাংলাদেশে প্রতিরাতে প্রবেশ করছে ২০/৩০টি ভারতীয় গরু-মহিষ, শাড়ি-কসমেট্রিক্স, চা পাতা-চিনি ও কক্সমেটিক্স ভর্তি ট্রাক। ফলে দেশীয় উৎপাদনে উন্নত মানের পণ্যগুলো এখন ক্ষতির সম্মুখীন, এমন অভিযোগ স্থানীয় জনগনের। একদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব তবে অপর দিকে ব্যাংক একাউন্ট ভারি হচ্ছে থানা পুলিশ ও বিজিবির কিছু অসাধু কর্মকর্তার।

তবে মোস্তফা চক্রের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ও বিজিবিসহ জেলা ডিবি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে মোস্তফা চক্র থানা পুলিশ ও বিজিবিসহ জেলা ডিবিকে ম্যানেজ করেই তার এই চোরাচালান রাজ্য পরিচালোনা করছে বিধায় তার চক্রের বিরুদ্ধে নেই কোন অভিযান। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো আইওয়াশ অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশ অবৈধ চোরাই পন্য আটক করলেও অধরা থেকে যায় মোস্তাফা চক্রের চোরাই পন্য বলে ক্ষোভ প্রকাশ স্থানীয়দের।

সীমান্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত অভিভযোগে জানা গেছে- সম্প্রতি বাংলাদেশে গরুরমাংস ও চিনির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন সীমান্ত হয়ে দেশে আসছে ভারতীয় গরু-মহিষ, শাড়ি-কসমেট্রিক্স, চা পাতা-চিনি। আর বিপরীতে ভারতে পাচার হচ্ছে মূল্যবান খাদ্য পণ্য সামগ্রী মটরশুঁটিসহ বৈদেশিক মূদ্রা। এটি এখন চোরচালানের ট্রানজিট পয়েন্ট। সক্রিয় হয়ে ওঠেছে চোরাকারবারি ও বখরাবাজ সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- চোরাকারবারিদের প্রধান হচ্ছেন গোয়াইনঘাটের গুচ্ছগ্রাম এলাকার মনজুর আলীর পুত্র মোস্তফা। মোস্তফাই নিয়ন্ত্রন করে চোরাকারবারীদের এই সিন্ডিকেট। এই চোরাকারবারী মোস্তফা চক্রের সদস্যরা হচ্ছেন- গোয়াইনঘাটের নয়াবস্তি এলাকার সামছু মিয়া, গুচ্ছগ্রাম এলাকার মোঃ শাকিব মিয়া, জাফলং এলাকার ইবো মিয়া ও নতুন বাজার এলাকার মৃত সামছু মিয়ার পুত্র হাসেম মিয়া সহ আরো অজ্ঞাতনামা ২০/২৫জন।

মোস্তফা পূর্বের গোয়াইনঘাট থানার ওসির ল্যাইনম্যান ছিলো। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিলো তৎকালীন সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিনর কাছে। সম্প্রতি চোরচালান নির্বিঘ্নে করার জন্য গোয়াইনঘাটে গড়ে ওঠেছে একাধিক বখরাবাজ সিন্ডিকট। বখরাবাজ সিন্ডিকেট সদস্য তথা লাইম্যানরা থানার ওসি কেএম নজরুল-এর নামেও বখরা আদায় করে থাকেন। কিন্তু তাঁর কথাবার্তা আচরণে মনে হয় তিনি কিছুই জানেন না। ল্যাইনম্যানরা চোরকারবরিদের কাছ থেকে ভারতীয় গরু প্রতি ১ হাজার টাকা করে পুলিশের বখরা আদায় করে থাকেন।

চোরাইপথে আনা চিনির বস্তা প্রতি আদায় করেন ৩শ’ টাকা। এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার গরু-মহিষ ও হাজার বস্তা চা-পাতা, চিনি-কক্সমেটিক্স আমদানী হচ্ছে গোয়াইনঘাট থানার জাফলং জিরো পয়েন্ট সিঁড়ির ঘাট ও গুচ্ছগ্রাম লালটিলা সীমান্ত দিয়ে। তবে চোরাকারবারি মোস্তফার হয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট সিঁড়িরঘাট হইতে থানা পুলিশের নিয়োজিত বখরাবাজ লাইনম্যান হিসেবে টাকা উত্তোলন করে নয়াবস্তি এলাকার সামছু মিয়া ও বিজিবির নিয়োজিত বখরাবাজ লাইনম্যান হিসেবে টাকা উত্তোলন করে ইবো মিয়া এবং গুচ্ছগ্রাম লালটিলা সীমান্তে পুলিশের নিয়োজিত বখরাবাজ লাইনম্যান হিসেবে টাকা উত্তোলন করে শাকিব ও বিজিবির নিয়োজিত বখরাবাজ লাইনম্যান হিসেবে টাকা উত্তোলন করে নতুন বাজার এলাকার মৃত সামছু মিয়ার পুত্র হাসেম মিয়া। তবে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এসআই এমরুল কবির ও এসআই সাদ্দাম হোসেন এ সকল লাইনম্যানদের সমন্বয় করে থাকেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।

এদিকে গত ২৩ এপ্রিল “গোয়াইনঘাট সীমান্ত চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য!” শিরোনামে সিলেটের একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসেন চোরাকারবারি মোস্তফা চক্রের সদস্যরা এবং শেল্টারদাতা এক কথিত সাংবাদিক পরিচয়দাতা ব্যক্তি। তড়িগড়ি করে ওই দিন রাতেই এক কথিত সাংবাদিক তার চোরাকারবারি চক্রকে বাচাঁনোর জন্য দৈনিক বিজয়ের বাণী পত্রিকার অনলাইন র্ভাসনে তার হাতে গড়া চোরাকারবারি চক্রকে পাথর শ্রমিক সাঁজিয়ে সম্পাদকের অজান্তে মনগড়া সাফাই গেয়ে একটি প্রতিবাদ সংবাদ প্রকাশ করেন। তিনি দৈনিক বিজয়ের বাণী পত্রিকার সদ্য বহিষ্কৃত সিলেটের ব্যুরো প্রধান কথিত সাংবাদিক। সে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে জৈন্তা ও গোয়াইনঘাটে গড়ে তুলেছে তার চোরাচালান বাণিজ্য। চোরাকারবারিদের পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রতিবাদ সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে কথা হয় দৈনিক বিজয়ের বাণী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের সঙ্গে তিনি সর্ম্পূণ তথ্য প্রমাণ এবং উক্ত বিষয় অবগত হয়ে তাৎক্ষণিক ওই কথিত সাংবাদিককে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে পত্রিকা থেকে বহিষ্কার করে দেন। সকল দিকে বাধাগ্রস্থ হয়ে কথিত ওই সাংবাদিক মোস্তফাকে দিয়ে ওই প্রতিবেদকেও হুমকি দেওয়াচ্ছেন যাহার সর্ম্পূণ কল রেকর্ড সংরক্ষিত।

গোয়াইনঘাট উপজেলা যখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। প্রতিদিন অন্তত কয়েক লক্ষ টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য ঢুকছে এই সীমান্ত পথে। গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট সিড়ির ঘাট ও গুচ্ছগ্রাম লালটিলা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োজিত সোর্সের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় হচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। এক কথায় গোয়াইনঘাট সীমান্তের চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য আর এক অদৃশ্য কারণে নিরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গোয়াইনঘাট থানার ওসি কেএম নজরুলের সরকারি সেলফোনে বার বার কল দিলেও তিনি সাংবাদিকের মোবাইল ফোন রিসভ করেন নি বিধায় বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet