সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে জ্ঞানমুদ্রা বেদ ও গীতা পরিবার এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা শ্রীমঙ্গলে এক দিনে ৩টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে ঠাকুর ঘর থেকে পাতি বেত আঁচড়া সাপ উদ্ধার বন্যার্তদের মাঝে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের খাবার বিতরণ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে কিশোর ও শিশুর মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্টান মৌলভীবাজারের পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে ৩৩২ গ্রাম প্লাবিত ছাতকে বন্যার পানিতে থৈ-থৈ করছে উপজেলার সর্বত্র, ঘর-বাড়ি রাস্তা-ঘাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত,পানি বন্দী হাজার হাজার মানুষ ৩ দিনব্যাপী মার্শাল আর্ট সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ মৌলভীবাজারে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে শতাধিক পরিবারের ঈদ উদযাপন
গোয়াইনঘাট সীমান্ত চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য: বেপরোয়া চোরাকারবারী মোস্তফা চক্র!

গোয়াইনঘাট সীমান্ত চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য: বেপরোয়া চোরাকারবারী মোস্তফা চক্র!

এ এ রানা::
সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলা সহ জাফলং জিরো পয়েন্ট সিড়ির ঘাট ও গুচ্ছগ্রাম লালটিলা জুড়ে প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় দেদারছে চলছে চোরাকারবার। ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ব্যান্ডের বিড়ি-সিগারেট, মাদকজাত দ্রব্য ইয়াবা, ফেন্সিড্রীল, বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, ভারতীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট, মটর সাইকেল, ভারতীয় শাড়ি, কসমেট্রিক্স, চা-পাতা ও ঔষধ সামগ্রী। এসব পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। মৃত্যু সহ পঙ্গুত্ব বরণ করছে সাধারণ জনগণ।

গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট সিড়ির ঘাট, গুচ্ছগ্রাম লালটিলা, সোনাটিলা, তামাবিল ও নলজুরী এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় চেরাকারবারী দলের সদস্যরা কতিত সোর্স বা লাইনম্যানরা মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ, ডিবিপুলিশ ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে অবাঁধে আসছে ভারতীয় গরু মহিষ, চা-পাতা, চিনি, পান মসলা সহ ভারতীয় পণ্যের চালান। যার বিপরীতে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে মূল্যবান খাদ্য পণ্য সামগ্রী মটরশুঁটিসহ বৈদেশিক মূদ্রা। শুধু মাত্র গুচ্ছগ্রাম এলাকার মনজুর আলীর পুত্র মোস্তফার হাত ধরে বাংলাদেশে প্রতিরাতে প্রবেশ করছে ২০/৩০টি ভারতীয় গরু-মহিষ, শাড়ি-কসমেট্রিক্স, চা পাতা-চিনি ও কক্সমেটিক্স ভর্তি ট্রাক। ফলে দেশীয় উৎপাদনে উন্নত মানের পণ্যগুলো এখন ক্ষতির সম্মুখীন, এমন অভিযোগ স্থানীয় জনগনের। একদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব তবে অপর দিকে ব্যাংক একাউন্ট ভারি হচ্ছে থানা পুলিশ ও বিজিবির কিছু অসাধু কর্মকর্তার।

সীমান্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত অভিভযোগে জানা গেছে- সম্প্রতি বাংলাদেশে গরুরমাংস ও চিনির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন সীমান্ত হয়ে দেশে আসছে ভারতীয় গরু-মহিষ, শাড়ি-কসমেট্রিক্স, চা পাতা-চিনি। আর বিপরীতে ভারতে পাচার হচ্ছে মূল্যবান খাদ্য পণ্য সামগ্রী মটরশুঁটিসহ বৈদেশিক মূদ্রা। এটি এখন চোরচালানের ট্রানজিট পয়েন্ট। সক্রিয় হয়ে ওঠেছে চোরাকারবারি ও বখরাবাজ সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- চোরাকারবারিদের প্রধান হচ্ছেন গোয়াইনঘাটের গুচ্ছগ্রাম এলাকার মনজুর আলীর পুত্র মোস্তফা। মোস্তফাই নিয়ন্ত্রন করে চোরাকারবারীদের এই সিন্ডিকেট। এই চোরাকারবারী মোস্তফা চক্রের সদস্যরা হচ্ছেন গোয়াইনঘাটের গুচ্ছগ্রাম এলাকার মোঃ শাকিব মিয়া, জাফলং ছৈলাখাল এলাকার মোঃ হযরত ওরফে মেম্বার হযরত ও একই এলাকার ইবো মিয়া সহ আরো অজ্ঞাতনামা ২০/২৫জন।

মোস্তফা পূর্বের গোয়াইনঘাট থানার ওসির ল্যাইনম্যান ছিলো। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিলো তৎকালীন সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিনর কাছে। সম্প্রতি চোরচালান নির্বিঘ্নে করার জন্য গোয়াইনঘাটে গড়ে ওঠেছে একাধিক বখরাবাজ সিন্ডিকট। বখরাবাজ সিন্ডিকেট সদস্য তথা লাইম্যানরা থানার ওসি কেএম নজরুল-এর নামেও বখরা আদায় করে থাকেন। কিন্তু তাঁর কথাবার্তা আচরণে মনে হয় তিনি কিছুই জানেন না। ল্যাইনম্যানরা চোরকারবরিদের কাছ থেকে ভারতীয় গরু প্রতি ১ হাজার টাকা করে পুলিশের বখরা আদায় করে থাকেন।

চোরাইপথে আনা চিনির বস্তা প্রতি আদায় করেন ৩শ’ টাকা। এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার গরু-মহিষ ও হাজার বস্তা চা-পাতা, চিনি-কক্সমেটিক্স আমদানী হচ্ছে গোয়াইনঘাট থানার জাফলং জিরো পয়েন্ট সিঁড়ির ঘাট ও গুচ্ছগ্রাম লালটিলা সীমান্ত দিয়ে। তবে জাফলং জিরো পয়েন্ট সিঁড়িরঘাট হইতে থানা পুলিশ ও বিজিবির নিয়োজিত বখরাবাজ লাইনম্যান হিসেবে টাকা উত্তোলন করে হযরত ওরফে মেম্বার হযরত ও ইবো মিয়া এবং গুচ্ছগ্রাম লালটিলা সীমান্তে মোস্তফা ও শাকিব। তবে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এসআই জহির ও এসআই মিহির এ সকল লাইনম্যানদের সমন্বয় করে থাকেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।

গোয়াইনঘাট উপজেলা যখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। প্রতিদিন অন্তত কয়েক লক্ষ টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য ঢুকছে এই সীমান্ত পথে। গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট সিড়ির ঘাট ও গুচ্ছগ্রাম লালটিলা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োজিত সোর্সের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় হচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। এক কথায় গোয়াইনঘাট সীমান্তের চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য আর এক অদৃশ্য কারণে নিরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গোয়াইনঘাট থানার ওসি কেএম নজরুলের সরকারি সেলফোনে বার বার কল দিলেও তিনি সাংবাদিকের মোবাইল ফোন রিসভ করেন নি বিধায় বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

চলমান সংবাদ

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet