সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, বাড়ীর প্রাচীর ভাঙচুর মৌলভীবাজারে পুলিশ লাইনে পোড়ামাটির শিল্পকর্ম উদ্বোধন করলেন আইজিপি শ্রীমঙ্গলে স্কুল বাজেট প্রণয়নে নাগরিক সচেতনতামুলক টাউনহল সভা সিলেটের কালিঘাট পিয়াজ পট্টি  থেকে ৫ জুয়াড়ি আটক মৌলবভীবাজারে মসজিদের ইমামকে চাকরি ছড়তে মারধর ও হুমকির অভিযোগ কুলাউড়ায় হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ আটক ৩ সিলেটে নগরীর দক্ষিণ সুরমা থেকে এক যুবক নিখোঁজ সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক শ্রীমঙ্গলের মোহাম্মদ আল আমিন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাব কখনো সাংবাদিক কখনো নাটকের নায়ক কখনো ডিবির সোর্স কে এই সোহাগ?
বহি:বিশ্বে বাঙ্গালী নতুন প্রজন্মদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে দেশে দেশে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী করে চলছেন বিকুল চক্রবর্তী

বহি:বিশ্বে বাঙ্গালী নতুন প্রজন্মদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে দেশে দেশে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী করে চলছেন বিকুল চক্রবর্তী

প্রতিবেদন,সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার:
বহি:বিশ্বে বাঙ্গালী নতুন প্রজন্মদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে দেশে দেশে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী করে চলছেন বিকুল চক্রবর্তী। ইতিমধ্যে তিনি ভারত, ফ্রান্স, ইতালী ও ডেনমার্কে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছেন। যা প্রবাসী অবস্থানরত হাজার হাজার বাঙ্গালীসহ ওইসব দেশের মানুষ তা পরিদর্শন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী জানান, সময়ের সাথে সাথে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ বিভিন্ন স্মারক গুলো। ক্রমশই আমরা হারাচ্ছি মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণদের। এই অবস্থায় তথ্য হারানোর ক্রান্তিলঙ্গেন তিনি মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন এবং এই সংগৃহিত তথ্য দিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী করে তা নতুন প্রজন্মকে জানান দিচ্ছেন। তিনি জানান, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও অনেকগুলো প্রদর্শনী করেছেন। যা ওই সকল দেশে থাকা বাঙ্গালী, বাঙ্গালী নতুন প্রজন্ম ও সে দেশের নাগরিকরা দেখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী ইতিহাস জানছেন। বিকুল চক্রবর্তী জানান, যার ডাকে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, সেই স্বাধিন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অতএব বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুরো বিশ্ববাসীকে জানানোও এখন আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আর প্রবাসীতো বাঙ্গালী নতুন প্রজন্ম আছেই। বিকুল চক্রবর্তীই প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেন্। তিনি প্রথম ২০২২ সনের ৫ জুন ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে আয়োজন করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে বাঙ্গলীর স্বাধীকার আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পেক্ষাপটের ১০০টিরও বেশি ছবি স্থান পায়। প্রদর্শনীতে ডেনমার্কে বসবাসরত শতাধিক বাঙালি তাদের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে উপস্থিত হন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানেন। ডেনমার্ক আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামি দাস বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে সুদূর বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে বিকুল চক্রবর্তী আয়োজন করেন মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শণী। যা ডেনমার্কে বসে আমরা আমাদের গৌরবের ইতিহাস জানতে পারলাম। আমাদের সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছে। এটা কোন দিন ভাবতেও পারিনি। এ প্রদর্শনীর ফলে প্রবাসী বাঙ্গালীদের দেশপ্রেম বেড়েছে। ডেনমার্কের পর বিকুল চক্রবর্তী গতবছরেরে ৮ জুন ইতালীতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানান দিতে ইতালীর রাজধানী রোমের সেন্ডসেললে পার্কে আয়োজন করেন আরো একটি মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী। আয়োজক অঞ্জন দেবনাথ ও নোবেল সাহা জানান, ইতালীতেও এই প্রথম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। এটি প্রদর্শনীর ফলে ইতালিতে বসবাসরত এ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পেরেছে। এই প্রদর্শনীটি উন্মুক্তস্থানে হওয়ায় বাঙ্গালীর পাশাপাশি হাজার হাজার ইতালীয়ান নাগরিকও তা পরিদর্শন করেন। একই বছরের ১২ই জুন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পর্কদ্যাপান্থায় বিকুল চক্রবর্তী আয়োজন করেন মুক্তিযুদ্ধের আরো একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীটিও বাংলাদেশীর পাশাপাশি অসংখ্য বিদেশী নাগরিক পরিদর্শন করেন। ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী অধীর সুত্রধর জানান, এই প্রদর্শনী আমাদেরকে আমাদের প্রজন্মকে কিছু সময়ের জন্য ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ফ্রান্স প্রবাসী সুশিল বনিক জানান, পর পর ইউরোপের তিনটি বড়দেশে বিকুল চক্রবর্তী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী করে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। কারন তিনিই প্রথম ইউরোপের মাটিতে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। তিনি জানান, এ প্রদর্শনী আমাদের দেশাত্মবোধ আরো বেগবান করেছে। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার কুমদ রঞ্জন দেব জানান, শুধু আলোকচিত্র নয় বিকুল চক্রবর্তীর প্রচেষ্টায় সংরক্ষিত হয়েছে অনেক গুলো বধ্যভুমি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় অনেক স্থান। তাঁর কর্মকান্ডই এমন যে একাত্তরের পরে জন্মগ্রহণ করেও তিনি আমাদের গৌরবের মুক্তিযুদ্ধের অংশীদার করেছেন নিজেকে। বিকুল চক্রবর্তী জানান, ইউরোপে বসবাসরত বাঙ্গালীদের দেশপ্রেম দেখে আমি সত্যি গর্বিত। সেখানে বসবাসরত বাঙালিরা তাদের পরিবার পরিজন সন্তান-সন্ততি নিয়ে এসে দীর্ঘক্ষণ মুক্তিযুদ্ধের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। বাংলাদেশ থেকে ছবি ও স্মরক নিয়ে ইউরোপে প্রদর্শনী করার এটাই স্বার্থকতা ছিল। এর আগে তিনি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাসহরে ও দেশে আরো ৫২টি এক্সিবিউশন করেন। তিনি জানান, এই এক্সিবিউশন গুলো করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানাভাবে বাঁধা বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন তবুও তিনি পিছিয়ে থাকেননি। নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানান দিতে সংগ্রহ করছেন তথ্য এবং তা দিয়ে আয়োজন করছেনে একের পর এক আলোকচিত্র ও স্মারক প্রদর্শনী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet