সংবাদ শিরোনাম :
চা কন্যার অজানা তথ্য নিয়ে আল ইকরাম নয়নের ভিডিও কন্টেন্ট সবজি ক্ষেতের জ্বালে আটকে পড়া দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার দক্ষিণ সুরমা থেকে ডিবি পুলিশের অভিযানে ০৩ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ি গ্রেফতার দক্ষিণ সুরমা থেকে ডিবি পুলিশের অভিযানে ০৩ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ি গ্রেফতার ডিবির অভিযানে খালিঘাট বস্তাপট্টি শরিফ ও জামালের  জুয়ার আস্তানা থেকে  খেলার সামগ্রী সহ ৩ জুয়ারী গ্রেফতার! ঈদ ও নববর্ষের টানা ছুটিতে চায়ের রাজ্যে ঢল নেমেছে পর্যটকের অবশেষে দক্ষিণ সুরমার শীর্ষ জুয়ারী কাশেমসহ পুলিশের হাতে আটক-৬, এখনো বহাল নজরুল-জামাল-অন্তরের জুয়ার প্রতারণা, সিলেটে মোটরসাইকেলে বেড়াতে বেরিয়ে ৩ বন্ধুই না ফেরার দেশে জাফলংয়ে নারী পর্যটকদের যৌন হয়রানি: এক তরুণের দুই বছরের কারাদণ্ড হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে গরুর ঘাস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩৫
শাহপরানে সরকারি জমির মাটি কেটে বিক্রির হিড়িক: নিরব প্রশাসন!

শাহপরানে সরকারি জমির মাটি কেটে বিক্রির হিড়িক: নিরব প্রশাসন!

এ এ রানা::
সিলেট সংবাদদাতা: নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সিলেট সদর উপজেলার শাহপরাণ থানাধীন পিরের বাজার হাতুড়া এলাকার কয়েকটি স্থানে সরকারি জমি ও কিছু মালিকানা জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্নস্থানে বিক্রির হিড়িক চলছে। আর অদৃশ্য কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও শাহপরাণ থানা পুলিশ। তবে সচেতন মহলের অভিযোগ এই মাটি বিক্রি থেকে নিয়মিত বখরা ডুকছে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে। জমির উপরের অংশ অর্থাৎ টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাওয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। দ্রুত এই মাটির দালালদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামীতে সরকারি জমি ও খাদ্য ঘাটতিসহ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকার মাটি কাটা নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় একটি মাটির দালাল চক্র। জনশ্রুতি অনুযায়ী তারা হলেন একই থানাধীন হাতুড়া এলাকার- মৃত সাজ্জাদ আলীর পুত্র কামাল উদ্দিন, মৃত আব্দুল লতিবের পুত্র আইন উদ্দিন, মৃত মকছির আলীর পুত্র সওকত আলী, মৃত ফুরকান আলীর পুত্র বাশির আলী, মৃত বতর আলীর পুত্র ময়নুল হক, একই থানাধীন নোয়াগাও এলাকার মৃত আব্দুল মসব্বিরের পুত্র সাইদুর রহমান সাইদ সহ আরো ১৫/১৬ জন। খাদিম সিরামিকস মালিকরা সরাসরি মাটি কাটায় অর্থ লগ্নি করায় এই মাটির দালালরা বিনিয়োগ ছাড়াই লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করছেন। মাটিবাহী ট্রাক ও এস্কেভেটর চলাচলের কারণে হাতুড়া টু পিরের বাজার সড়কের অবস্থা এখন বেহাল। গত দেড় মাস ধরে তাদের শেল্টারে যেখানে কয়েকটি স্পটে নিয়মিত মাটি কাটা চলছে সেখানে অদৃশ্য কারণে মাটি কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের নেই কোন কার্যকরী ভূমিকা। আর এদিকে মাটি কাটা বন্ধে স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না বরং এই মাটি খেকোদের দৈনিক ২ হাজার টাকার বিনিমিয়ে তাদের পুলিশ সহযোগীতা করছে বলে গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে।

এদিক, তপশীল, জেলা-সিলেট, থানা- শাহপরাণ, মৌজা- চুয়াবহর বটেশ্বর, জে.এল.নং- ৬৬, খতিয়ান- ১, দাগ নং- ১০৯২, ২১১৭ ও ১০৬৩ পরিমাণ প্রায় ৩০ একর সরকারি জমি থেকে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ সহ এই মাটি দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গতকাল বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এক সচেতন নাগরিক, যাহার ডকেট নং- ২২৩।

এছাড়াও এই মাটি দালালরা জোরপূর্বক যে কারো জমি থেকে মাটি কেটে অন্যথায় বিক্রি এমন একাধিক অভিযোগ থানায় থাকলেও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কিছু অসাধু পুলিশ অফিসার মাটি দালালদের সহযোগীতা করায় অভিযোগ করে কোন সুফল পাননি কেউই।

ঠিক তেমন একটি ঘটনায় পুলিশের কোন সহোগীতা না পেয়ে গতকাল বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) নিজের জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ সহ এই মাটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন হাতুড়া এলাকার সৈয়দ আরজান আলীর পুত্র সৈয়দ মোঃ রুহুল আমিন (৪০)। যাহার শাহপরাণ বিবিধ মামলা নং- ০৬/২০২৩ইং।

আদালত বাদীর মামলাটি আমলে নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় অপরাধের জন্য শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরজমিন তদন্ত সাপেক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শাপরাণ থানার অফিসার ইনর্চাজকে নির্দেশ প্রদান করেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হোসন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা বলেন- ফসলি জমিতে পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। রাত-দিন ২৪ ঘন্টা মাটি টানার ট্রাকে করে এসব মাটি নেয়া হচ্ছে অন্যথায়। এর ফলে পিরের বাজার টু বাঘা সড়কটির উপর তৈরি করা সংকীর্ণ সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এক কথায় বেপরোয়াভাবে চলাচলকারী মাটি টানার ট্রাকের চাপে রাস্তাঘাটের অবস্থা এখন বেহাল।

আরোও জানা গেছে, উল্লেখিত মাটি দালালরা একাধিক স্থানের ফসলি জমিতে ভেকু দিয়ে অর্থের বিনিময়ে মাটি কেটে বিক্রি করছে। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের অভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এই মাটিখেকোরা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফসলি জমির মাটি কর্তন, বিক্রয়কারী এবং অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগটা বহু পুরাতন। এর ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এই মাটিখেকোরা।

এব্যাপারে জানতে সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর ব্যবহৃত নাম্বারে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet