সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে আ. লীগের ৭৫তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী পালন শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে আবারও বিশাল আকৃতির অজগর উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে জ্ঞানমুদ্রা বেদ ও গীতা পরিবার এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা শ্রীমঙ্গলে এক দিনে ৩টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে ঠাকুর ঘর থেকে পাতি বেত আঁচড়া সাপ উদ্ধার বন্যার্তদের মাঝে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের খাবার বিতরণ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে কিশোর ও শিশুর মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্টান মৌলভীবাজারের পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে ৩৩২ গ্রাম প্লাবিত ছাতকে বন্যার পানিতে থৈ-থৈ করছে উপজেলার সর্বত্র, ঘর-বাড়ি রাস্তা-ঘাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত,পানি বন্দী হাজার হাজার মানুষ
মনোরঞ্জন বিশ্বাসের মিথ্যা অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে খোরশেদ আলমের সংবাদ সম্মেলন

মনোরঞ্জন বিশ্বাসের মিথ্যা অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে খোরশেদ আলমের সংবাদ সম্মেলন

প্রতিবেদন,এম.মুসলিম চৌধুরী:
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরোনা গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ^াসের করা অভিযোগের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন শেখ মো: খোরশেদ আলম।
শেখ মো: খোরশেদ আলম শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বরুণা গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ^াস এক সংবাদ সস্মেলন করেছেন। উল্লেখিত সংবাদ সম্মেলনে তাকে জড়িয়ে মিথ্যে ও ভিত্তিহীন বক্তব্য উপস্থাপন করে তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে মনোরঞ্জন বিশ^াসের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মনোরঞ্জন বিশ^াস শ্রীমঙ্গলে সংবাদ সম্মেলন করে উল্লেখ করেছেন হাফিজা খাতুন, কলা মিয়া, দিলু মিয়া, মামুন মিয়াগং হইতে ১৩.৪৪ একর ভূমি মনোরঞ্জন বিশ^াসের পুত্র-স্ত্রী-ভাই ক্রয় করে ভাসমান ফিসারী তৈরি করেছেন। আদতে এই ভূমিতে আরো মালিকানা অংশ রয়েছে। ছালেক মিয়া, সাজনগং পুরো জমির একাংশের মালিক রয়েছেন। যা স্থানীয়ভাবে আমিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জ্ঞাত আছেন। এই ভূমি নিয়ে মাননীয় আদালতে কলা মিয়া বাদি হয়ে একটি স্বত্ত¡ মামলাও করেছেন। যার নং স্বত্ত¡ মামলা ৪৪০/২১। মামলাটি এখনো মাননীয় আদালতে বিচারাধীন। এছাড়া বয়রা বিল নিয়ে তিনি (মনোরঞ্জন বিশ^াস) যে বক্তব্য দিয়েছেন তাও সত্যের অপলাপ মাত্র। এ বিলটি ১৪২৭ বাংলা হতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ৬ বছরের জন্য পূর্ব মূল্যের চেয়ে ৬৯ শতাংশ বর্ধিত মূল্যে ডলফিন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনূকুলে ইজারা প্রদানের জন্য মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে ব্রেঞ্চ ২০২০ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি রায় প্রদান করেছেন। এ রায়ের প্রেক্ষিতে ১৪৩২ বাংলা পর্যন্ত এ বিলটির প্রকৃত ইজারাদার হলো ডলফিন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কিন্তু অন্নপূর্ণা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তথ্য গোপন করে খাস কালেকশন কাগজ সংগ্রহ পূর্বক বিল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে মৎস্য আহরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা নিয়ে এলাকায় ও শ্রীমঙ্গল শহরে বিচার-শালিস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বিচার অনুষ্ঠানে এলাকার মুরব্বী হিসেবে আমিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলাম বিধায় সব ঘটনাগুলো আমিসহ এলাকায় প্রায় সবারই জানা। ডলফিন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি ‘সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ এর সকল শর্ত মতে কোন আদালতে জলমহালের খাস আদায় সংক্রান্ত বিষয়ে রুজুকৃত মোকাদ্দমায় স্থগিতাদেশ/নিষেধাজ্ঞা থাকলে খাস কালেকশন প্রযোজ্য হবে না’। তিনি বলেন, আমি শেখ খোরশেদ আলম ডলফিন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাথে সম্পৃক্ততা নাই। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের দ্বারা এ সংগঠন গঠিত। তারাই মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে এ বিলটির বৈধ ইজারাদার। কিন্তু মনোরঞ্জন বিশ^াস আমাকে জড়িয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে অপদস্থ করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। যখনই এ বিলটি নিয়ে বিচার-শালিস হয়েছে তখনই আমি সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। ফলে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার নামে মিথ্যে ও ভিত্তিহীন বক্তব্য উপস্থাপন করে চলেছেন। ডলফিন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনূকুলে ইজারা প্রদানের জন্য মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে ব্রেঞ্চ ২০২০ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি রায় মোতাবেক তারা বিলের প্রকৃত ইজারাদার হিসেবে ছিলেন। যা আমিসহ এলাকার সকলেই জানেন। পরে মন মোহন বিশ^াস নামে খাস কালেকশন হবার পর ডলফিন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি মহামান্য হাইকোর্টে খাস কালেকশনের ওপর স্ট্রে অর্ডারের জন্য আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর মহামান্য হাইকোর্ট ষ্ট্রে অর্ডার প্রদান করেন। এ অর্ডারের পর সরকার মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে আপীল করলেও মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। আমি সমাজের একজন বিচারিক ব্যক্তি হিসেবে আমি বিষয়গুলো জ্ঞাত থাকায় এবং সত্যের পক্ষে আমার অবস্থান অটল থাকায় মনোরঞ্জন বিশ^াসগং আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। আমি যেহেতু স্থানীয় মুরব্বী হিসেবে বয়রা বিল নিয়ে প্রায় সবগুলো বিচার-শালিসে উপস্থিত ছিলাম সেহেতু এই বিলের অনেক কিছুই আমি জানতে পেরেছি। মনোরঞ্জন বিশ^াস ও তার পরিবারের যে ১৩.৪৪ একর জমি তাদের বলে দাবি করে ফিসারী তৈরি করেছেন সে ফিসারী ৪ বছরের জন্য ৪ লক্ষ টাকায় সব-লিজ প্রদান করেছেন কলা মিয়াগংদের নিকট। যা স্থানীয় ও উপজেলা-জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জ্ঞাত আছেন। একজন মুরব্বী হিসেবে সকলের মতো আমিও জ্ঞাত রয়েছি। এ নিয়েও স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশ হয়েছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনের এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন সাক্ষী উপস্থিত আছেন। আমাকে জড়িয়ে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ হয়েছে। অথচ আমি বিবাদমান কোন পক্ষের প্রতিনিধি নই। আমি একজন সত্যের পক্ষের মানুষ। সে হিসেবে ঘটনাগুলো সকলের মতো আমারও জানা। আর এই জানাটাই কাল হলো। আমাকে জড়িয়ে তিনি মিথ্যে ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের সংবাদ সস্মেলনে ডলফিন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত আছেন। তারা বয়রা বিলের আদোপান্ত আপনাদের অবহিত করবেন। আমাকে জড়িয়ে মিথ্যে তথ্য উপস্থাপন করায় আমি আমার অবস্থান আপনাদের কাছে পরিস্কার করার লক্ষ্যে আপনাদের সাথে আজকের এ বৈঠক। আমার আজকের এ বৈঠককে সংবাদ সম্মেলন অথবা মতবিনিময় সভা হিসেবেও আপনারা নিতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet