সংবাদ শিরোনাম :
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না : মির্জা ফখরুল

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না : মির্জা ফখরুল

এ এ রানা ;; সিলেট বিভাগীয় গণ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধের সরকার প্রতিষ্ঠা করে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চায় তারা। তিনি বলেন, বিএনপি শান্তি চায়। কোন অশান্তি চায় না। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে পরাজিত করতে আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর রাজপথে সরকারের সাথে ফয়সালা করতে চায় বিএনপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯ নভেম্বর শনিবার সিলেট মহানগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে তিনি বিকেল পৌনে পাঁচটায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার বানাতে হবে। তার আগে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ও শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবী তুলে ধরেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রের সংবিধান নিজে নিজে তৈরী করে। সেজন্য বিএনপি এটা মানে না। আগামী দিনে তত্ত¡াবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে আর কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। এটাই হলো সংকট উত্তোরণের একমাত্র পথ। মহাসচিব বলেন, সরকার বিএনপিকে হুমকি দিয়ে বলেছে, এভাবে আন্দোলন করলে হেফাজতের মতো অবস্থা হবে? মির্জা ফখরুল বলেন, এভাবে বিএনপিকে হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। বিগত ১৪ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকার গুম, খুন, নির্যাতন সহ অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠিয়েছে। এগুলো নতুন কিছু নয়। তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, দিনার সহ অগণিত বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী নিখোঁজের তথ্য সহ সম্প্রতি সিলেট জেলা বিএনপি নেতা আ.ফ.ম কামাল হত্যাকান্ডের অভিযোগ তুলে ধরেন। কারণ সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেশকে আবার সেই তলা বিহীন ঝুড়ি বানিয়েছে। জনতার আদালতে এ সরকারের বিচার করা হবে। তাদের ছাড় দেয়া হবে না। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। সরকার আর গুম, খুন, মিথ্যা মামলা দিলে বিএনপি নয় পাশাপাশি জনগণও তাদের রুখে দেবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি সিলেট থেকে এই যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস শুরু করতে চায়। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে সাধারণ মানুষের পেট দেয়ালে ঠেকে গেছে। জনগণকে বাঁচাতে এখন নতুন যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে। এই যুদ্ধ হলো ভোট ও ভাতের অধিকার। বিএনপি নেতৃত্ব দিয়ে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিএনপি’র বিভাগীয় সমাবেশ দুপুরে শুরু হলেও শেষ হয় বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের মাধ্যমে বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে। সমাবেশে বক্তব্য দেন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ আব্দুল মঈন খান, বিএনপি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ.কে.এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সদস্য ফজলুর রহমান, ডঃ এনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব বারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জিম হোসেন আলাল, বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বারিস্টার নাসিম আহমদ, মহিলা দলের নেত্রী আফরোজা আব্বাস, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসের রহমান, আরিফুল হক চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ শাখাওয়াত হোসেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এলিন জেরিন খান, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী ইলিয়াস পতœী তাহসিনা রুশদি লুনা, বিএনপি নেত্রী শাম্মী আক্তার, নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি নেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন নিলু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা জি.কে গৌছ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এম.পি কলিম উদ্দিন মিলন। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সিলেট মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, জেলা বিএনপি নেতা আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। সমাবেশ পরিচালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও মহানগর বিএনপি নেতা কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সমাবেশে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। সমাবেশ স্থলের মাঠ সহ আশপাশ রাস্তায় বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের দখলে ছিল। সমাবেশের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত দূর-দুরান্ত থেকে কোন যানবাহন চলাচল করেনি। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক জনতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সংবাদটি শেয়ার করুন :





© All rights reserved © 2021 Holysylhet